একটি ছেলে (৭ম পর্ব)



কোর্ট এ যাওয়ার পরে বেনুর বন্ধুরা তাকে জিজ্ঞেস করে,,কিরে কি জন্য আসছিস এইখানে? বেনু তখন ওর বন্ধুদের বললো যে সে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করতে চায়। কথাটা শুনে বেনুর বন্ধুরা অবাক হয়ে গেল! বললো কি বলছিস এইসব? মুসলমান হবি মানে,, মাথা ঠিক আছে তো তোর? বেনু বললো আমি ঠিক এই আছি কিছু হইনি আমার। আর আমি যা বলছি সব ভাবে চিনতেই  বলছি।হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলি কেন?  বাড়িতে কি কোন সমস্যা হইছে। ওই সব বাদদে এখন,, বলে বেনু উকিল এর সাথে দেখা করে কথা বলে নিলো।সে উকিলকে বললো যে,,স্যার আমি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করতে চাই। উকিল শুনে বললো ওঠলো মাশআল্লা এত খুব ভাল সিদ্ধান্ত,, আচ্ছা তাইলে তো আমায় আগে কিছু কাগজপত্রে লেখা লেখির কাজটা করে নিতে হবে। আপনারা বসুন আমি কাগজ গুলো ঠিক করে নেই,, তারপরে আমাদেরকে জাজ এর কাছে যেতে হবে। বেনুর বন্ধুরা বেনুকে বারবার বোঝাচ্ছে যে,, দেখ এমন টা করিসনা,, ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে কাজ কর। বেনু বলে ওঠলো এই তোরা চুপ করতো ভালো লাগছে না আমার।এইদিকে উকিলের লেখা লেখির কাজ হয়ে গেছে। উকিল বেনুকে ওই সব কাগজে সই করতে বললো,,বেনু কাগজ গুলোতে সই করছে আর কাদছে,, বেনুর বন্ধুরা বেনুকে আবার বললো দেখ বেনু এখনও সময় আছে এমন করিসনা।  উকিলকে না হয় তার কাজের  টাকা টা দিয়ে দেওয়া হবে। বেনু বললো না,, আমি যা করছি অনেক চিন্তা ভাবনা করেই করছি।সই হয়ে গেলে কিছুক্ষন পর বেনু উকিল এর এর সাথে গিয়ে জজ এর কাছে কাগজ জমা দিয়ে সব নিয়ম কানুন মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলো। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পরে বেনুর নতুন নামকরণ করা হলো,, ইসলাম     ধর্মের নাম অনুসারে বেনুর নাম রাখা হলো,, মোঃ মমিনুল ইসলাম। নতুন নাম হলেও বেনুর এলাকার বেশির ভাগ লোকজন তাকে বেনু বলেই ডাকে। বেনু মুসলমান হওয়ার পরে অফিস কোয়াটারে একটা রুম ভাড়া নিলো। এখন থেকে বেনু এইখানেই থাকবে। বেনুর রুম থেকে তাদের বাড়ি বেশি একটা দূরে নয়,, যার কারনে বেনু দুই বোন মিনা ও আশা প্রায় দিন এই বেনুর সাথে দেখা করতে আসতো। এইভাবেই চলতে লাগলো বেনু নতুন জীবন। একদিন বেনু অফিসের সাইটে একটা বারান্দায় চেয়ার এ বসে ছিল,, হঠাৎ একটা বয়স্ক মহিলা বেনুকে ডাক দিল বাবা শুনছো,, বেনু বললো জি চাচি বলেন কি বলবেন! আমি এইখানে একটা কাজে আসছি মেয়েটাও আমার সাথে আসছে,, ওকে নিয়ে ওই খানে যাওয়া হবে না আমার। এর আগে এইখানে একটা ছেলে ওকে কি যেন বলছিলো তাই একা রাখে যেতে ভয় করছে তুমি তো চিনো আমায় তাই বলছি তুমি যদি একটু দেখে রাখতে আমার মেয়েটাকে  খুব উপকার হতো বাবা। আরে চাচি বলেন কি আমাদের এলাকায় কার এতো সাহস হলো যে মেয়েদের বিরক্ত করে,, আচ্ছা সমস্যা নাই, আপনি আপনার মেয়েকে এইখানে বসিয়ে দিয়ে যান আমি মাঝে মাঝে এসে দেখে যাবো সমস্যা নাই।ধন্যবাদ বাবা,,আরে কি যে করেন চাচি ধন্যবাদ দিতে হবে না।এই বলে বেনু সেখান থেকে উঠে গেলো। এইদিকে ওই মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে এসে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বললো,, এখানেই থাকবি কেমন কোথায় যাবি না কেও ডাকলেও না। আমি এইখানে আমার পরিচিত একটা ছেলেকে বলে দিছি কেও কিছু বলার সাহস পাবেনা। বলে মেয়েটির মা চলে গেল,,কিছুক্ষন পরে মেয়েটিকে দেখতে এসে বেনু তো অবাক হয়ে গেল,, বললো এইটা চাচির মেয়ে! মেয়ের মা দেখছি নিজে হাতে মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিয়ে গেছে। আসলে যে মেয়েটিকে ওর মা বেনুর কাছে রেখে গেছে সে আর কেও না সে হচ্ছে আনু,, যাকে বেনু অনেক ভালোবাসে। এই যে মেয়ে কেমন আছো তুমি? আনু চমকে উঠে বললো আপনি!  আরে ভয় পাচ্ছো কেন,, তোমার আম্মুই তোমাকে আমার কাছে রেখে গেছে। কোন সমস্যা নাই তুমি এইখানে বসে থাকো,, বলে মুচকি হাসি দিয়ে বেনু ওখান থেকে চলে গেল। অল্প কিছুক্ষন পরে বেনু বাদাম হাতে নিয়ে এসে আনুকে দিয়ে বলে ধরো বাদাম খাও,,আনু নিতে চাচ্ছিল না বেনু জোর করে ওর হাতে দিলো।  তারপর বেনু আনুকে বললো তুমি বসে বাদাম খাও একটু পরে আবার আসবো আমি ঠিক আছে,,,  বলে বেনু চলে গেল, আর আনু কিছু না বলে অবাক হয়ে বেনুর চলে যাওয়া  দেখছিল।...........

              ( চলবে ) 

  আরিফা

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts