ও হে, বন্ধু

ও হে, বন্ধু 

ইবনে মনির হোসেন 


শুনতে কি পাও কালের ধ্বনি

জাগিছি কত পঙ্গু পাল

অসত্যের অলক্ষুণে লোক

স্বার্থের আকাশে তুলিরেখা টেনে

এঁকেছিল পূর্ণিমার চাঁদ।


চলো দেখে আসি তাদের পদ যাত্রা

কত দূর এগিয়েছে কত পথ

বোধহয় এরা আর আসবে না

প্রভাতের দোর খুলে

প্রভাতের হাসি মুখ নিয়ে।


ও হে বন্ধু দুঃসাহসী পথের যাত্রী 

কোন দিন কর্মহীন আকাশে

শুনেছ কি নবপ্রভাতে শিখরচূড়ায়

ফুটেছে ফুল বিজয়ের পুরো নাম, 

চলছে যে পথ চলছে অবিরাম 

ফিরবে কোন অজানায়।


দূর হতে সবি যতো চিনা মনে হয়

আসলে কি এতো চিনা হয়

পারবে কি চিনতে তারে আপন করে

আমারো মতো 

অতীতের নিকট হতে দীর্ঘশ্বাসে

বহিবে ভারি বাতাস

ঝরা ফুলের কান্না মেঘে ডাকা চাঁদের

ব্যথিত মলিন আকাশ

খুঁজে দেখ এখুনি কি রয়েছে সে 

তোমার প্রাণের প্রান্তরের জ্যোতি।


স্বপ্ন এক আবেগের কোকিল পাখি 

ডেকে ওঠে বসন্তের কৃষ্ণচূড়ায়

সবচেয়ে সত্য এক প্রভাতের কিরণ

মৃত্যুঞ্জয় অমর প্রেম

কাষ্ঠ পোড়া মাটির দেয়ালে

গড়ে ওঠা এই শহর ইট পাথরে খোপে খোপে অসহায়ের নিরব বর্ষণ

ভারি চোখের জল করুণ মুহূর্তগুলি

তৃষ্ণার মতো সে কষ্ট করে পান।


ও হে বন্ধু তোমার হয়নি কোন ক্ষতি 

পথের তৃণলতার গায়ে যদি জ্বলে আগুন

যদি সৃষ্টি করে থাক তারি মতো প্রেমের পরশের খেলা

আঘাতপ্রাপ্ত হবে কি তখন ম্লানস্পর্শ লেগে

তৃষ্ণার্ত আবেগবেগে

ভ্রষ্ট কি হবে তোমার কোন ফুল ফুটানো ভোর মিষ্টি সুর।


অচেনা কোন শোক কাঁদেনা যে মন

বৃথা এ প্রেম বৃথা এ বিশ্বলোক

শূণ্যতার কাছেই আছে শুভ্র তুষার। 

উৎকণ্ঠিত যদি কোন দৃষ্টি প্রতীক্ষায় থাকে

সেই ধন্য করিবে আমায়

রজনীগন্ধার বৃন্তখানি পারে সে 

সাজাতে আঁধার নিশি রাতে

যে দেখিতে চাই আমাকে

সেই দেখিতে পায় নয়নে ভালোমন্দ

মিলিয়ে আমার প্রেমের শুভ্র ফুল

 

মনের পরশে দিতে পারে ত্যাগ

নিঃশেষ অধিকার আছে তার

তিলে তিলে গড়তে পারে

করুণ পথের অরুণ আলোর প্রভাত

ও হে বন্ধু তুমি আমার ঐশ্বর্য 

তুমি আমার পৃথিবী সূর্য আলোক

তোমাতে পুড়ে তোমাতে গড়ি

আমার পুষ্পিত মালঞ্চ 

সুবাসে মুগ্ধ করে এই সব যত। 


    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts