কাল্পনিক গল্প ২য় পর্ব

কাল্পনিক গল্প

২য় পর্ব

লেখক:নিলিমা  খান

ভ্রমণ শব্দটা সব ধরণের মানুষের কাছেই টান টান উত্তেজনা কর একটা শব্দ।

কমবেশি সবারই ভ্রমণ করতে ভাল লাগে। হয়ত কেউ কেউ আমরা এমনও আছি যারা ভ্রমণে বেশ বিরক্ত ও হই। আবার কেউ ভ্রমণকে নিজের মনের মত করে ঊপভোগ করার চেষ্টা করি। গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য অল্পসময়ে বেশ ভালভাবে দেখা যায় রেল ভ্রমণের মাধ্যমে। রেল ভ্রমণ মানেই যেন গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য্য স্বচোক্ষে অবলোকন করা। জানালার পাশে বসলে বাংলার রূপ দুচোখ ভরে দেখা যায়।

গ্রাম বাংলার রূপ যেন সদ্য যৌবন প্রাপ্ত রমনীর মত।

যে রমনীকে একবার দেখলে বার বার দেখার ইচ্ছা জাগবে অনেকের ই মনে।আর তার প্রেমে পড়তে ইচ্ছা করবে, মন চাইবে তাকে প্রাণ উজাড় করে ভালবাসি। গ্রামের মাঠ,ঘাট,নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় সবুজ ফসলের সমারাশি, ছোট বড় নানা রঙ্গের গাছের সারি। দেখতে সত্যিই অসাধারণ। অপরূপ দূশ্যগুলা দেখার জন্য মন সবসময় ক্লান্ত হয়ে থাকে। মন প্রশান্তিতে ভরে উঠে যার অনুভূতি ব্যাখা করা বড় দুঃস্বাধ্য ব্যাপার।

হে রূপসী বাংলা তোমার মাঝ দিয়ে  চলে গেলো,

মত্ত ঝাপটার মত যুদ্ধ,

শত হাজার বছর বেঁচে থাকলেও 

তুমি হবেনা কখনও বৃদ্ধ।

তুমি অপরূপ যৌবনের অধিকারি আমাদের পল্লী মা জননী,

ধরণীর বুকে তুমি সবচেয়ে অপরূপময়ি

মনমুগ্ধকর সুন্দরী এক তরুণী।

রয়েছে তোমার বুকে নদী-নালা, খাল-বিল

মাঠ, ঘাট ও কাশফুলে ভরা,

মনে হয় তোমার রূপের জ্বলকানিতে হার মানে বিশাল বসুন্দরা।

পল্লী বাংলার এ রূপ লাবণ্য

দেখা হোক যত শতই,

তবুও দেখিতে অবুঝ এমন 

সদা চাই ততই।

.

.

পাশে যদি থাকে কোন সুন্দরী রমনী, তাহলে মনটা আপনা আপনি হয়ে যায় চাঙ্গা।

মন শুধু হারিয়ে যেতে চাই অজানা দিগন্তে। খুঁজে নিতে চায় নতুন করে কোন কল্পনাকে। যার থাকবেনা কোন দুঃখের কাহিনী, থাকবে শুধু অবিরাম সুখের সীমাহীন প্রান্ত।

জিবনের প্রথম রেলভ্রমনকে স্বরণীয় করে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করা উচিত। তাই আমিও চাই মেয়েটি ভ্রমণের সঙ্গীহোক। মেয়েটিকে দেখতে দেখতেই রেলভ্রমণের পরিসমাপ্তি ঘটুক। মেয়েটি সামনে থাকুক যাতে ভ্রমণটা হয়ে উঠে রোমান্টিক কোন সময়ের স্বাক্ষী। 

যা কখনও ভুলা যাবে না।

.

.

একটা বয়স্ক লোক টিকিটটা দেখে বলল আমাদের এখানেই

বসতে হবে। মেয়েটা বলল বাবা আমি জানালার পাশে বসব। এই বলে সে জানালার

পাশে এসে বসল। মেয়েটার ডানে তার একটা ছোট ছেলে, তার ডানে বসল একটা ভর্দ্র মহিলা। আর সর্বশেষ ডানে সেই লোকটা যাকে মেয়েটি বাবা বলে ডাকল।

আর তাদের বিপরীত আমি আমার ছোট বোন আর একটা মহিলা বসে আছি।

মেঘ না চাইতে জল বলে কথাটি সত্য প্রমাণিত হলো।

কিন্তু মনে যেন অস্থিরতা লাগছে। মেয়েটার দিকে তাকাতে লজ্জা করছে, অথচ তাকেই দেখছিলাম এতক্ষণ। এখন ওর দিকে তাকাতে নিজেকে অপরাধীর মত মনে হচ্ছে। মেয়েটা বসে মাথার চুল গুলো নাড়ছে আর মুচকি হাসি

দিচ্ছে। হঠাৎ দুজনের চোখে

চোখাচোখি হয়ে গেলো।

মেয়েটা আমার দিকেই চেয়ে ছিলো। এতে আমার কেমন জানি অসস্থি লাগল।

পাশে বসা ছোট বোনের

দিকে তাকালাম। জানিনা সে আবার ভাইকে কেমন ভাববে।

.

হঠাৎ মেয়েটার হাত থেকে

একটা ডায়েরী এসে পায়ে পড়ল। এতে যেন কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসল। পড়ে যাওয়া ডায়েরীটা তুলতে যাচ্ছিলাম তার আগেই মেয়েটি ডায়েরীটা তুলে নিল। আর সরি বলল। তারপরে মেয়েটা একটা কলম হাতে নিয়ে ডায়েরীটা তার কোলের ওপর রাখল। আর কি যেন লিখছে? মনে হচ্ছ তিনি এখন কল্পনার রাজ্যে চলে গেছেন।

হঠাৎ বোন আমাকে চিমটি দিয়ে ফিস্ ফিস্ করে কানে কানে বলল, দেখ ভাইয়া মেয়েটি কি ভাব দেখাচ্ছে?

এই বলে সে মুচকি হাসি দিলো।  আমি একদম চুপ।

আড় চোখে তাকালাম মেয়েটির দিকে।

দুরন্ত গতিতে ট্রেন এগিয়ে চলছে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে। মেয়েটি হঠাৎ ডায়েরী বন্দ করে বলল।

-আপনার নাম কি?

আমি- আ..আ.. আমাকে বলছেন।

মেয়ে- হুম আপনার।

ভাইয়ের এরকম পরিস্থিতি দেখে বোন আমার হেসে উঠল।

তার হাসিতে মেয়েটাও হেসে উঠল, যে হাসির শেষ কথায় বলা মুশকিল বা তা আদৌও শেষ হয়েছে কিনা জানিনা।

 এতে বোনের উপর অসন্তষ্ট হলাম।

মেয়ে- কি হলো আপনার নাম কি বললেন না?

আমি- মোহাম্মদ ফাহিম  সরকার 

মেয়ে- কি করেন?

ফাহিম- বসে আছি।

মেয়ে- তা তো দেখতেই পারছি

কি করেন তাই বলেন?

আমি-স্টুডেন্ট

মেয়ে- কোন কাজ করেন না

আমি- করি।

মেয়ে- কি কাজ করেন?

ফাহিম - ACI Foods limited এ চাকুরী করি।

কেন বলেন তো?

মেয়ে- কিছুনা এমনি

আমি- ও।

মেয়ে- কেন আপনার সাথে কথা বলা যাবেনা।

আমি- না আমি কি তা বলেছি কখন ও।

মেয়ে- আপনিতো কথা বলতেই চাচ্ছেন না।

আমি- কই বলছিতো।

মেয়ে- কই আমি তো একাই বলছি।

আমি-ও আচ্ছা মিষ্টি হেসে। মনে মনে বললাম এ কেমন মেয়েরে বাবা যেন আমার চাকুরীর ইন্টার্ভিউ নিচ্ছে।

মেয়ে- কি চুপ কেন কি ভাবেন?

আমি- কিছুনা, নাম কি আপনার?

মেয়ে-  ফারিয়া রহমান।

আমি- ডায়েরীতে কি লিখছেন?

তন্নি- কিছুনা।

স্তব্দ হয়ে গেল পরিবেশ ট্রেনের ঝন ঝন শব্দ আবার বেজে উঠল। চোখগুলো খুঁজতে লাগল বাংলার রূপ।

ফসলের মাঠ হাসছে সোনার ফসলে। আহ্ কত সুন্দর লাগছে!

মনে হয় হারিয়ে যাই প্রকূতির মাঝে।

ফারিয়া- কি হলো।

আমি- কই।

তন্নি- চুপ কেন কিছুই বলেন না যে?

আমি- এমনি।

ফারিয়া- কোন ক্লাসে পড়েন আপনি।

আমি- ইন্টার  সেকেন্ড ইয়ার

আপনি?

ফারিয়া- পড়িনা।

আপনি কি বিয়ে করেছেন?

আমি- না।

ফারিয়া- ওনি কি হন।

আমি- আমার ছোট বোন।

ফারিয়া- আপনার বাড়ি কোথায়।

আমি- কামার খন্দ।

ফারিয়া- কোথা হতে আসলেন?

আমি- কমলাপুর বোনের বাসায় আপনি?

ফারিয়া- মামার বাসায়

ফাহিম - ও

হঠাৎ ট্রেন থেমে গেল।

স্তব্ধ পরিবেশ যেন একটা বাজারের মত হয়ে গেল। কেউ একজন বলল এখানে ক্রসিং হবে। অনেক সময় লাগবে।

এমন সময়ে বোনের ফোন বেজে উঠল ওপার থেকে আদিলের কন্ঠে হ্যালো..


ট্রেন থেমে গেল, স্তব্দ পরিবেশ ভারী হয়ে উঠল। লোকজন যেন বাস্তবে ফিরে আসল।

তারা নানা সমস্যার কথা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে মশগুল। সমস্ত ট্রেনের পরিবেশ যেন

কফি হাউসের কোন আড্ডা।

.

.

-ফারিয়া তুমি ওখানে গিয়ে বসো

হাত দিয়ে পাশের দিকে একটা

সীট দেখালো এক ভদ্র মহিলা।

ও বলা হয়নি ফারিয়া যে সীটে

বসেছে ওই পাশে তারা

পাঁচজন বসেছে।

ফারিয়া জানালার পাশে তার

ডানে তার ছোট ভাই সোহান,

তার ডানে শাশুরী মা, তার

পরে মা ও সর্বশেষ ডানে বাবা।

ফারিয়া উঠে ওই পাশে

গিয়ে বসল।

ওখানে বসা ছিল নিলয়।

নিলয় তন্নির স্বামী।

তন্নি পাশে বসাতে সে

দূরে সরে গেল। এতে রেগে গেল মনে মনে। সে ওখান থেকে উঠে নিলয়

কে বলল আমি নিচে যাব আসেন। নিলয় বলল সে যাবেনা, পারলে একাই যাগগে সে। তন্নি সোহান কে নিয়ে নীচে নেমে গেল।

হঠাৎ আমার বোন বলল ভাইয়া যাও একটু ফল নিয়ে এসো। তাই ফাহিম  নীচে নেমে গেল। একপাশে তন্নি সোহানকে নিয়ে দাড়িয়ে ছিল।

আমাকে নীচে নামতে দেখে

ডাক দিল।

ফারিয়া- কোথায় যাচ্ছেন?

আমি- ফল কিনতে।

ফারিয়া- ও

আমি-আচ্ছা আপনি বিবাহিত।

ফারিয়া- হুম মনে হল সে অনেক কষ্ট করে বলছে।

আমি- ঐ টা আপনার স্বামী।

ফারিয়া- হ্যাঁ।

আমি- ওনি আপনার সাথে রেগে আছেন বুঝি?

আপনাকে পছন্দ করছেনা তাই।

ফারিয়া- কেন পছন্দ করবেনা,

পছন্দ করে কিন্তু ওনি আমাকে

স্ত্রীর মর্যাদা দেননি।

(চোখের কোণে একটুকরো জল এনে)

আমি- কেন আপনার মত মেয়ের প্রতি উনি ঊদাসীন?

ফারিয়া- ওনি একটা মেয়েকে ভালবাসত, তারপর মেয়েটা মারা যায়। তাই তাকে সে ভুলতে পারে নাই। সে অনেক শোক পেয়েছে তার মারা যাওয়াতে।

তার বাবা মায়ের কথা চিন্তা করে সে বেঁচে আছে মরেনি।

কিন্তু সে তার প্রেমিকার জন্য আমাকে ভালবাসতে পারছেনা। আমার কাছে আসলে নাকি ঐ মেয়েটা চোখের সামনে এসে পড়ে।

আমি- আপনাকে তাহলে বিয়ে করছে কেন?

ফারিয়া-ঐ মেয়ের সাথেই বিয়ের কথা ছিল তার কিন্তু বিয়ের আগেই সে মারা যায়।

এতে সে একা হয়ে যায় আর বিয়ে করবেনা বলে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আমার প্রতি তার একটু দুর্বলতা ছিল এজন্য বাড়ি থেকে ওনাকে বুঝিয়ে আমাদের বিয়েটা হয়েছে।

থাক এসব কথা।

বাহ্ আপনি অনেক সুন্দর হাঁসতে পারেন তো।

-মুচকি হেসে বললাম আপনার হাঁসিটা কিন্তু কখনও ভুলবার নয়। আর আপনি দেখতে অনেক কিউট।

আচ্ছা আপনার ছোট বোন আছে।

তন্নি- কেন।

সোহান একটু দূরে চলে গেছে তাই তাকে ফারিয়া ডাকল।

সোহানের বয়স ৫-৬ হবে দেখতে অনেক সুন্দর।

আমি- থাকলে নিশ্চয় আপনার মত সুন্দরী হবে।

ফারিয়া- হ্যাঁ হবেই তো, তা কি করবেন শুনি থাকলে।

ফাহিম- মুচকি হাসি দিয়ে বললাম বিয়ে করতাম।

ফারিয়া- তাই।

আমি- হ্যাঁ কেন বিয়ে দিবেন না আমার সাথে। (মুচকি হেসে)

ফারিয়া- হ্যাঁ......... হ্যাঁ।

আমি- হাসলেন কেন?

ফারিয়া- সরি।

আসলে আমার কোন বোন নাই তাই।

আচ্ছা চলেন ফল ক্রয় করি।

শুধু আপেল আর মালটা বিক্রি হচ্ছে। ফল কিনে আমি একটু পানির বোতল কিনতেছিলাম। তার আগেই ফারিয়া চলে গেলো।

ফারিয়া এসে আগের জায়গায় বসেছে।

ট্রেনে উঠা মাত্র ট্রেন তার নিজস্ব গতিতে চলতে লাগল।

.

.ফারিয়া তার স্বামীর কাছে বসতে গিয়েছিল, কিন্তু সে তাকে ওখানে বসতে নিষেধ করেছে।

ফারিয়া তাই কাঁদতে কাঁদতে আগের জায়গায় এসে বসেছে। তার শাশুরী মা তাকে বলল, শোন মা তুমি একটা কাজ কর।

ঐ ছেলের (ফাহিমের) সাথে হেঁসে হেঁসে কথা বলবে।

ফারিয়া- মা, এ কি বলছেন?

শ্বাশুরী- হ্যাঁ বলবে এতে নিলয় দেখে যদি রাগান্বিত হয়, তবে তোমাকে ভালবাসবে। তখন তোমাকে কাছে নিতে পারে।

আমি যা বলছি তাই করবে।

.

.

.

আমি ফল কিনে  সীটে

গিয়ে বসলাম।

বোনের হাতে ফলের প্যাকেট টা দিয়ে পকেট থেকে মোবাইল

টা বের করলাম। দেখো আম্মু কতবার ফোন দিছে।

- ফোন ধরনি কেন।

- বুঝতে পারিনি।

-আম্মুকে এখনি ফোন দাও

-হ্যালো ........

ফোন ধরলে না কেন বাবা।

আমিতো টেনশন করছিলাম।

বাড়িতে পৌছাবে কখন।

- আম্মু বুঝতে পারিনি ফোন দিছিলেন, 

বাড়ি পৌছাতে রাত ১০ টা বাঁজতে পারে।

-ও সুমনার কাছে ফোনটা দাও।

-  ধরো কথা বলো।

-হ্যালো আম্মু............

.

বাবা তোমদের বাসা কোথায়?

ফারিয়া শাশুরী আমাকে বলল।

আমি- আন্টি কামার খন্দ সিরাজগঞ্জ জেলাতে

--তোমরা কোন স্টেশনে নামবে বাবা।

- জি, জামতৈল রেল স্টেশনে।

এখানে সবাই মিলে একটা

পরিবারের মত মজা করে গল্প করছি। তন্নির পরিবারের সাথে যেন ভাই বোন একাকার হয়ে গেলাম। দেখে মনে হচ্ছে একটা পরিবারের সবাই।

এ দিকে নিলয় পরিবারের

সবার থেকে আলাদা হয়ে, একা অন্যদের সাথে বসেছে।

ওখান থেকে এই দূশ্য দেখে

তার হিংসা হচ্ছে।

নিলয়ের মা নিলয়ের মুখ দেখে

কি যেন আন্দাজ করলেন কে জানে।

ভদ্র মহিলাকে দেখে যে কেউ

নিশ্চিত ভাবে বলবে যে, 

ওনি খুব চালাক এবং যথেষ্ট বুদ্ধিমতী নারী। তার আচার-আচরণ ভাল তিনি অনেক ভদ্র এবং ভাল মনের অধিকারিণী।

তবে তিনি কতটা খারাপ তা

আমার জানবার বিষয় নয়।

উহা তার শত্রু পক্ষরাই ভাল জানে। তবে তার তুলনায় তার

ছোট বোন মানে তন্নির মা একটু বোকা বাবাটাও ওইরকমী, তবে ওনারা খুব ভাল মনে হল। ফারিয়ার শাশুরী যা বলে তাই তারা শোনে।

কারণ তার প্রতি তাদের বিশ্বাস এতটাই বেশি যে সে কখনও ভুল সিদ্ধান্ত নিবে না।

হঠাৎ ফোনটা বেঁজে উঠল।

ভাইয়া এই নাও ফোন, কে যেন রিং দিছে।

হ্যালো...আস্সালামু অলাইকুম।

-ওপার থেকে শক্ত কন্ঠে সালামের উত্তর দিল।

কে ফাহিম?

- জ্বি বস আমি রাসেল।

- বাড়িতে আসছ কি? না এখনও ঢাকায় আছি।

- বস বাড়ির দিকে রওনা দিছি ঢাকা থেকে।

- আচ্ছা শোন আগামীকাল ডিউটিতে একটু ভোর ৬ টায় আসবে।

একটু কাজ জমা পড়ে আছে।

মিস্ করবে না।

- ওকে বস।

ওপারের কন্ঠ বন্ধ হয়ে গেল।

.

হঠাৎ ফারিয়ার শাশুরী বলল 

বাবা ফাহিম তুমি একটু সরে বসো জানালার পাশ থেকে।

 অবুঝ বালকের মত তা পালন করলাম। আমাদের একপাশে অবশ্য সীট একটা খালি ছিল কোন অসুবিধে হলোনা।

মা ফারিয়া তুমি ওখানে ফাহিমের পাশে বস।

ফরিয়া- খালা কেন, এটা কি বলছো?

--যা বলছি তাই কর।

-আপা ও এখানেই তো ভালো আছে ওর বসার দরকার নাই।

ফারিয়া বাবা মা একসাথে বলে উঠল।

আমিও এই বিষয়টার

ওপর আপত্তি করলামম।

-যাহোক অবশেষে ফারিয়া

আমার পাশেই বসতে হলো।

শুধু বসা নয় আমার সাথে

হেঁসে হেঁসে কথা বলার নির্দেশ দিল।

ফারিয়া দ্বিমত কিন্তু তার শাশুরী

মা তাকে কসম দিল।

আমি বিষয়টা নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেলাম। আমার পাশে বসানোর জন্য ওনি এত অস্থির কেন? আবার সামান্য পাশে বসা নিয়ে ওনি কসম পর্যন্ত দিলেন।

ব্যাপারটা নিয়ে ফারিয়ার শাশুরী

ব্যাতীত সবাই গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত...

চলবে....

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts