গল্পঃ-ভাগ্য পর্বঃ ৯ আবিরুল ইসলাম ফয়জুল্লাহ

গল্পঃ-ভাগ্য

..

..

পর্বঃ-৯

..

লেখকঃ-আবিরুল ইসলাম ফয়জুল্লাহ 

..

..

তোমার কাছে একটা জিনিস চাই বো মা তিসা...দেবে......???

- তিসা কিছু না ভেবেই বলে দিল

- বলো না একবার কি চাই... যা চাইবে তাই দিব।

আন্টি কিছুক্ষণ তিসার মুখের দিকে চুপ করে চেয়ে থেকে বললেন

- আমার ছেলের বউ বানাতে চায় তোকে অনুমতি দিবি.....?

তিসা যেন পৃথিবী ছেড়ে অজানা গ্রহে এসে ধপ করে পড়ল।

- যেন কিছুই ওর বোধগম্য নয়।

- শুধু ফ্যাল ফ্যাল চেয়ে রইলেন আন্টির দিকে।

আন্টি উত্তর না পেয়ে উঠে জানালার কাছে যেতে যেতে বললেন


- তোর মামার সাথে সব কথা হয়েছে আমার আগেই।

- এখন শুধু তোর অপেক্ষা। দেখ আমি কিন্তু ধরেই নিয়েছি আমার ছেলের বউ তুই।মানে আমার মেয়ে তুই।

- তাই এখন থেকেই তুই করে বলতে লাগলাম।

জানালার দিকে তাকিয়েই একদমে কথাগুলো বলে গেলেন তিনি।


- তিসা মাথা নিচু করে বসে রয়েছে।শেষ পর্যন্ত মামা....! তার মানে আগেই সব প্ল্যান করা ছিল।


- কিন্তু মামা কি জানে তার পাগল ছেলের কথা..?? মামা কি জানে তার ছেলে কি অঘটন ঘটাতে পারে এই কথা শুনলে..??

আন্টি তিসার কাছে ফিরে এসে মাথায় হাত রাখলেন।

- তোর কোনো কিছুতে কোনো অসুবিধা হবে না।

- তোর ভবিষ্যৎ।তোর চাকরি পড়াশোনা তোর পরিবার সব কিছুর দায়িত্ব আমার।


- তিসা তবুও চুপ করে আছে। বুকের ভেতর ধাম ধাম করে যেন রানা নাম উচ্চারিত হচ্ছে।।।

আন্টি তিসা কে চুপ থাকতে দেখে আবার বললেন

- আচ্ছা তুই সময় নে।ভাব।যা ঘরে যা।

ঘরে যা বলতেই তিসা সটাং করে উঠে ঘরে চলে আসলো।


- কিছুক্ষণ থ মেরে চুপ থেকে ফুপিয়ে কান্না শুরু করল।

- কেন আমার সাথেই এরকম হয়? কেন ভাগ্য আমাকে নিয়ে এত খেলে? কেন আমার জীবনে সুখ স্থায়ী হয়না? কেন? কেন? কেন?


- মুহুর্তেই ইমনের কথা মনে হলো ওর।ইমন যদি রাজি না থাকে তাহলে আর বিয়ের প্রশ্নই ওঠে না।

- চোখটা মুছে তিসা দৌড়ে যায় ইমনের ঘরে। কিন্তু ইমন নেই ঘরে।খাটের ওপর ইমনের ডাইরি টা রাখা। তিসা দেখতে গিয়েও দেখলনা। মানুষের জিনিসে অনুমতি ছাড়া হাত দেয়া উচিৎ না।

- তিসা হতাশ মনে চলে আসার জন্য ঘুরতে গেলেই ডাইরির কয়েকটা পাতা বাতাসে উড়ে তার ভেতর থেকে একটা কিছু এ তিসার পায়ের কাছে পড়ে।তিসা সেটা তুলে দেখে... আশ্চর্য ...!!!!! এটা তো তিসার ছবি।ঠিক বোঝা যাচ্ছে না কবে তোলা। একমনে দেখতে দেখতে তিসার মনে পড়ে এটা তো সেদিনের ছবি যেদিন তিসা প্রথমে ঢাকায় এসেছিল। 

- আর এটা তোলা যখন তিসা ট্রেন থেকে নেমে কাউকে খুজছিল।

তিসা কিছু একটা আন্তাজ করে দৌড়ে যায় ডাইরির কাছে।


- হ্যা যা ভেবেছিল তাই।ডাইরি টা তিসাকে নিয়েই লেখা।প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব ঘটনা সুন্দর করে প্রেমের ভাষায় লিখা।


- সবচেয়ে অবাকের বিষয় এক জায়গায় লিখা ছিল- আজ আমি যা দেখেছি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার তিসাকে রানা কিস করছে।

- একদম সহ্য হয়নি আমার।তাই মাকে বলে দিলাম আমার তিসার বিয়ে যেন তাড়াতাড়ি দেয় মা।

তিসা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে।

- ইমন তিসাকে ভালবাসে।

আর এটা জেনে যে রানা তিসাকে ভালবাসে। তাই হয়তো রানা যাওয়ার দিন ইমন রানাকে থাকতে বেশি জোর করেনি।

কতক্ষণ ঐভাবে বসে ছিল মনে নেই তিসার।


- বাইরে থেকে আন্টির ডাকে হুশ ফেরে তিসার। তারপর ডাইরিটা ঠিকমত রেখে ইমনের ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে তিসা।

- কই ছিলি কখন থেকে তোর ফোন বাজছে। যা ফোন ধর।

তিসা রুমে গিয়ে ফোন হাতে নিয়ে দেখে মামা ফোন দিচ্ছে। ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে তিসা।

- কই ছিলি?

- বাইরে?

- আন্টি কিছু বলেছে?

- হুম।

- কি ভাবলি? দেখ আমি কিন্তু না করার কারণ দেখছি না।তোর মাকে বলেছি সেও রাজি।রানাও বলল বেশ ভাল হবে।তাই আমার মনে হয় রাজি হলেই ভাল করবি।এখন তুই কি চাস বল?

রানার কথা শুনতেই গলা ধরে আসে তিসার। রানা বলে দিল ভাল হবে? কি করে পারলো? কেমন ভালবাসে সে তিসাকে???

- কি রে চুপ কেন? বল কিছু

- আমি রাজি মামা( রানা যখন বাধা দেয়নি তখন আমার কি- মনে মনে)

- আলহামদুলিল্লাহ। তাহলে সামনের শুক্রবারেই দিন ঠিক করছি।তুই কালকেই চলে আয়।( অনেক খুশি হয়ে)

- হুম।

মামা ফোন কেটে দিলেন।কিছুক্ষণ পর আন্টি এসে তিসাকে জড়িয়ে ধরলেন।

- আমি জানতাম তুই না করতে পারবি না। ছেলেটা তোকে অনেক সুখে রাখবে দেখিস।আমিই কাল তোকে উঠিয়ে দিয়ে আসব।

বলেই উনি চলে গেলেন।তিসা ঠাই বসে থাকল ঐভাবে যেন পাথর হয়ে গেছে।

..

..

..

তিসা বাড়িতে এসেছে দুদিন হলো।আর দুদিন পর বিয়ে।তেমন কোনো আয়োজন ই হচ্ছে না। তিসার ইচ্ছা এটা।থম মেরে বসে থাকা ছাড়া যেন আর কোনো কাজ নেই তিসার ।কোনো দিকে কোনো খেয়াল নেই।ডাকলে সহজে সাড়া দেয়না।

মামি বেচারা বেশ খুশি একটা আপদ তো বিদায় হচ্ছে। তাহলে বাকিগুলোও হয়ে যাবে। 

ফোন বাজছে তিসার। কিন্তু ধরার নাম নেই।রিসা চিল্লিয়ে উঠল পাশ থেকে।

- আপু তোমার ফোন বাজছে ।পাশেই আছো তাও ধরছো না।

তিসা ফোনটা হাতে নেয় ।ইমনের ফোন।

সেদিনের পর থেকে ইমনের সাথে কথা হয়নি তিসার শুধু আসার সময় একবার চোখাচোখি হয়েছে।তিসা ফোনটা রিসিভ করল।ঐপাশ থেকে আন্টি কথা বলে উঠল।

- তিসা।মা তোর আঙ্কেল এসেছে।মানে হবু শশুড়।কথা বল।

ভদ্রতার খাতিরে কিছুটা কথা বলে ফোনটা রেখে দিল তিসা।কথাগুলো বেশ ভালই লাগল। ঐ পরিবারের সবাই আসলেই ভাল।

বাইরে থেকে রানার কথা শোনা গেল।রিসা দৌঁড়ে বাইরে গেল ।তিসাও দরজা ধরে দরজার পাশে দাড়াল।মামি ঘাম মুছে দিচ্ছে ছেলের।

- তোকে বলেছি আরো দুইদিন আগে আসতে।

- মা,নতুন চাকরি।চাইলেই তো আর ছুটি দিবে না।

- হয়েছে। ।যা ঘরে গিয়ে আরাম কর।

রানা ঘরে ঢুকার সময় তিসার দিকে শুধু এক পলক তাকালো। তিসার চোখ ছলছল করছে কিন্তু রানার চোখ ঠিকই আছে।

..

..

..

দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে আসলো।

- বিয়ে বাড়ি হলেও পরিবেশ বেশ শান্ত।

- দুপুরের পর ইমন রা চলে আসলো।তিসার যেন বুক ফেটে যাচ্ছে।সব ভেঙেচুরে যাচ্ছে।কিন্তু মুখ ফুটে কিচ্ছু বেড়ুচ্ছে না।শুধু চোখের পানি ছাড়া।

বাইরে থেকে কেউ একজন বলল এবার বিয়ে পড়ানো শুরু করা যাক।

তিসা চোখ মুখ বন্ধ করে মুষ্টি করে বিছানার চাদর চেপে ধরল......................




------বাকি টা পরের পার্টে দেওয়া হবে.............

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts