গুরু-শিষ্যের পদাবলি।। আবদুল কাদের

শিষ্য! যে জানেনা কিছুই, গুরুজি কিছু জানেন-

কোন সে অদৃশ্য আদেশ উভয়কে কাছে আনেন?

পিতা ও পুত্রের মাঝে গড়েনা এ মিল,

জনে জনে দেখি দ্বন্ধ-বিভেদ, সহস্র আবিল-


একজন তাকিয়ে রহে মন্ত্রমুগ্ধ, বিমুগ্ধ নয়ানে-

জ্ঞানিজন সদা জ্ঞান-ধন-ভারে আপনার বুকে টানে।

কী স্বাদ সাধু! পরার্থ এ দানের গভীরে, 

ম্লানে মুহূর্তে পলকে যাহা দিবস রবিরে।


এই যে সভ্যতা দেখো, ছড়ানো শহরে নগরে-

বিশ্বময়-মহাচাষ-উৎসব ঐ বিনম্র নখরে!

মানুষ গড়ার কারিগর, কতটুকু তারে চিনি,

মনুষ্য-প্রকৃতি যদি ভাবে ও স্বভাবে, -ওস্তাদে ঋণি!


চির অতৃপ্ত মনে আলোকের পশরা সাজিয়ে-বিগত যৌবন যার সাম্য-সৌন্দর্যের গান বাজিয়ে।

হে নমস্য! ধন্য জীবন তোমার এই চরাচরে,

তব কীর্তি-আখ্যান লেখা, মর্মের-মর্মরে স্বর্ণ আখরে।

রক্ত-মাংসের আর হাত পায়ের মানুষ প্রাণিরে,

গুরুই শিখান দর্শন-কলা, পরম মমত্বে ধীরে।

যে মমত্ব যে মহত্ব, কোন মায়ে মনেতে ধরেনি,

-তাই পিয়ে আজ, শস্য শ্যামলা সবুজ এ ধরণী।


শিষ্যের চির জ্ঞানের পিপাসা মেটে যদি কোন কালে-

পিতৃ-তুল্য ওগো বরেণ্য! তোমারই সুকৌশলে।

হাটে-ঘাটে-পথে-পর্বতে-জলে, জনতার এই ভীর-

দূর হ'তে দেখি ওস্তাদজি, তুমিই উন্নত শির!




    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts