চালের দাম অকারনে বেড়েছে

চালের মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারন খুঁজে পাইনি বাংলাদেশ।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে চালের উৎপাদন বেড়েছে। বিশ্ব বাজারের দরও আগের চেয়ে কম। ফলে স্থানীয় বাজারে চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কার নেই। এদিকে ঢাকার পাইকারি বাজারে নির্বাচনের আগে ও পরে চালের দাম কেজি প্রতি তিন চার টাকা বেড়ে যাওয়ার পর এখন তা কমেছে। যদিও এর কোনো সুফল পাননি ক্রেতারা। কারন, খুচরা বাজারে দাম কমেনি। বিক্রেতারা বলছেন,  মিল মালিকদের সঙ্গে খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রীর বৈঠকের পর মূলত চালের দাম বাড়ার প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের চালের আরতের মালিক লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন,  নির্বাচনের আগে ও পরে মিল মালিকেরা চালের দাম বাড়াচ্ছিলেনন। এখন তা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তা কেন হবে? কারন ভোটের সাথে জিনিসের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই খাদ্য মন্ত্রীকে সতর্ক থাকতে হবে।  কিন্তু খুচরা বাজারে দাম আগের মতই আছে। যতটুকু বেড়েছিল তা আর কমেনি। খুচরা বাজারে প্রতি বস্তা ভালো মানের সরু মিনিকেট চাল ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে কেজিপ্রতি দর পড়ে ৫৪-৫৫ টাকা। অবশ্য বস্তানিয়ে কেজি দরে কিনতে বিক্রেতারা ৫৬-৫৮ টাকা চাইছেন। অন্যদিকে মাঝারি মানের বিভিন্ন চাল ৪৪-৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  আর ভালো মানের মোটা চাল খুচরা বাজারে ৪০ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সূত্রে পাওয়া ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০১৭ -২০১৮ অর্থবছরে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৭ শতাংশ।  বা ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টন। ফলে মোট উৎপাদন দারিয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার টন। ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৪২ লাখ টনের বেশি চাল আমদানি হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ৮৮ হাজার টন। দেশে উৎপাদন বাড়ায় সরকার চাল আমদানির উপর কর বাড়িয়ে দিয়েছে, যা এখন মোট ২৮ শতাংশ। ফলে চলতি অর্থবছরে প্রথম ৬ মাসে চাল আমদানি কমে ১ লাখ ৮০ হাজার টনে দাড়িয়েছে। জানতে চাইলে  মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটকেন্দ্রিক একজন আমদানিকারক ও আড়তমালিক বলেন, কয়েকটি বড় মিলের মালিকেরা পরামর্শ করে বাজার নিয়ন্ত্রন করেন। ধান মজুত রাখতে ব্যাংক ঋণের বিপরীত সুদ পরিশোধ করতে হয় বলে তাঁরা মৌসুমের শেষ দিকে দাম বাড়াতে চাইছিলেন। এটাই সাম্প্রতিক মূল্য বৃদ্ধির কারন। ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের সময় পরিবহন বন্ধ থাকা ও সরকারের ক্রয়ের কারন হিসেবে দেখে ছিলেন। এগুলো খোড়া যুক্তি।আসলে বাজারে যারা বড় বড় সরবরাহকারী, তারা দাম বাড়িয়ে দিলে অন্যরা সেটা অনুকরন করে। অকারনে দাম বাড়িয়েছে,  তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts