জিভে জল আসা শুঁটকির ১২ পদ

শুঁটকির তীব্র গন্ধে কারো কারো নাড়িভুঁড়ি উপড়ে আসার উপক্রম হয়, কেউবা শুঁটকির কথা শুনলে শুঁটকির নানা পদের কথা বলতে থাকেন আর জিভ বেচারাকে লালার সাগরে ভাসিয়ে দেন। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এটা স্বীকৃত যে, শুঁটকি মাছে জীবিত মাছের চেয়ে বেশি পরিমাণ পুষ্টি থাকে।আজকে আপনাদের জন্য রয়েছে শুটকি মাছের ১২ পদের রেসিপি।

১।চ্যাপা শুঁটকির ভর্তা

উপকরণ : চ্যাপাশুটকি ২০ গ্রাম, শুকনা মরিচ ১৫টি, পেঁয়াজ টুকর ১ কাপ, রসুন কোয়া আধা কাপ, লবণ স্বাদমত, লাউপাতা ২টি।

প্রণালি : শুটকি পরিষ্কার করে ধুয়ে পাতা দিয়ে মুড়ে ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেল দিয়ে ভেজে নিন সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত। ভাজার পর উপরের পাতাটি ফেলে দিন। রসুন কোয়া ভালভাবে টেলে নিন। পেঁয়াজও টেলে নিন যেন কচকচে ভাব থাকে। শিলপাটা শুকনা মরিচ বেটে নিন। এবার শুটকি, লবণ ও রসুন দিয়ে বাটুন। সবশেষে পেঁয়াজ দিয়ে আধাবাটা করে এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করুন।

২। চ্যাপা শুঁটকি ভুনা

উপকরণ : চ্যাপা শুঁটকি ৪টা, রসুনকুচি আধা কাপ, তেল ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, ধনিয়াগুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, কাঁচামরিচ ২-৩টি।

প্রণালি : চ্যাপা শুঁটকি কুসুম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি, রসুনকুচি, হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া ও শুঁটকি দিয়ে কষান। সামান্য পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে দিন। তেল ওপরে উঠে এলে কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে নামিয়ে নিন।

৩। লইট্টা শুঁটকি ভুনা

উপকরণ :  লইট্টা শুঁটকি ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ২৫০ গ্রাম, রসুন কুচি ১০০ গ্রাম, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা আধা চা চামচ, হলুদ বাটা আধা চা চামচ, মরিচ বাটা আধা চা চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি ৫টি, লবণ ১ চা চামচ, আস্ত জিরা আধা চা চামচ, পানি আধা কাপ, তেল আধা কাপ।

প্রণালি : আস্ত শুঁটকি আগুনে পুরপুর শব্দ হওয়া পর্যন্ত ছেঁকে নিন। এবার শুঁটকি ছোট ছোট টুকরা করে কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। চুলায় কড়াইয়ে তেল দিয়ে গরম হলে অর্ধেক পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ বেরেস্তা হলে আস্ত জিরা দিন। জিরা ফুটে উঠলে শুঁটকি দিন। ভালো করে নেড়ে সব বাটা মসলা দিন। রেখে দেওয়া পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি ও লবণ দিয়ে কষিয়ে পানি দিয়ে ঢেকে আঁচ কমিয়ে দিন। ঢেকে দেওয়া শুঁটকি সিদ্ধ হয়ে মাখামাখা হলে কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে নেড়ে আবারও ঢেকে দিন। ভুনাভুনা হলে নামিয়ে ফেলুন।

৪। দোমাছা

উপকরণ : ছুরি মাছের শুঁটকি ১ কাপ, কোরাল চিংড়ি মাছ ১ কাপ, পেঁয়াজকুচি ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, গোটা রসুন কোয়া ৭-৮টি, পেঁয়াজবাটা ১ চা-চামচ, টমেটোকুচি ১ টেবিল চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া দেড় চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, কাঁচা মরিচ ফালি ৫-৬টা, ধনিয়াপাতাকুচি ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি : ছুরি মাছের শুঁটকি টুকরা করে গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। নরম হলে ভেতরের কাটা বেছে নিন। চিংড়ি মাছের মাথা ফেলে ধুয়ে রাখুন। অথবা কোরাল মাছ নিলে ছোট ছোট করে কেটে তেলে পেঁয়াজ অল্প ভেজে হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া, রসুনবাটা, পেঁয়াজবাটা, লবণ ও টমেটোকুচি দিয়ে কষান। এবার শুঁটকি দিয়ে নাড়ুন। চিংড়ি অথবা কোরাল মাছের টুকরা ঢেলে কষান। অল্প পানি দিয়ে ঢেকে দিন। ১০ মিনিট পর কাঁচা মরিচ ও ধনিয়াপাতাকুচি দিয়ে নামিয়ে নিন।

৫। শুঁটকি পাতুরি

উপকরণ : চ্যাপা শুঁটকি ৫০ গ্রাম, আলু কুচি ২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, মরিচ বাটা ৩ টেবিল চামচ, হলুদ বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা আধা টেবিল চামচ, ধনিয়াপাতা কুচি আধা কাপ, ফিশসস ১ টেবিল চামচ, তেল আধা কাপ, লবণ ১ চা চামচ, লাউ বা কুমড়াপাতা ১৫টি।

প্রণালি : শুঁটকি ধুয়ে বেটে নিতে হবে। কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি নরম করে ভেজে ধনিয়াপাতা ও লাউপাতা ছাড়া সব উপকরণ দিয়ে ভুনে নিন। এবার ধনেপাতা দিয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করুন। পাতার মধ্যে পরিমাণমতো শুঁটকির পুর দিয়ে মুড়ে টুথপিক দিয়ে আটকে দিন। ফ্রাইপ্যানে অল্প তেল দিয়ে গরম হলে ভেজে নিন। ২ পিঠ ভালোভাবে ভেজে পরিবেশন করুন।

৬। নোনা ইলিশে বেগুন

উপকরণ : নোনা ইলিশ ৪ টুকরা, বেগুন ৫০০ গ্রাম, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, তেল ১ চা-চামচ, জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ, কাঁচামরিচ ৪-৫টি, পেঁয়াজকুচি ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ।

প্রণালি : নোনা ইলিশ পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। বেগুন টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তেলে পেঁয়াজ অল্প ভেজে হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া ও রসুনবাটা দিয়ে কষান। ইলিশ ও বেগুন ঢেলে দিয়ে নাড়তে থাকুন। অল্প পানি দিয়ে ঢেকে দিন। বেগুন সেদ্ধ হলে জিরাগুঁড়া ও কাঁচা মরিচ দিন। নোনা ইলিশে পর্যাপ্ত লবণ থাকায় তরকারিতে লবণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

৭। রূপচাঁদা শুটকির দোপেঁয়াজা

উপকরণ : রূপচাঁদা শুটকি ১টি, তেল পরিমাণ মতো, পেঁয়াজকুচি ২ কাপ, রসুনকুচি আধা কাপ, টমেটোকুচি আধা কাপ, সামান্য আদাবাটা, ধনিয়াগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া ৩ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া দেড় চা-চামচ, কাঁচামরিচ ৬টি, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি : রূপচাঁদা শুটকি দুই ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। নরম হলে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে, ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার প্যানে তেল দিন। তেল গরম হলে তাতে পেঁয়াজকুচি, রসুনকুচি, সামান্য আদাবাটা, ধনিয়াগুঁড়া, মরিচ, হলুদ, তেল, লবণ, কাঁচামরিচ আর টমেটো-কুচি সব মসলা ভালো করে ভেজে নিন। পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে তাতে মাছ দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। এবার অল্প পানি দিয়ে ভালো করে কষিয়ে ঢেকে দিন। পানি কমে মাখা মাখা হলে তাতে কাঁচামরিচ দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।

৮।কাঠালের বিচি শুঁটকি

উপকরণ :  কাঁঠালের বিচি আধা কাপ, শুঁটকি মাছ ১/২ কাপ, রসুন কাটা আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, রসুন বাটা এক চা চামচ, মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ সামান্য, কাঁচামরিচ ফালি ৪-৫টি, তেল আধা কাপ, লবণ স্বাদ অনুসারে, জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া আধা চা চামচ।

প্রণালী : শুঁটকি মাছ কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। কাঁঠালের বিচি ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে রসুন কুচি দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে একে একে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে শুঁটকি ও বিচি দিয়ে কষাতে হবে। খুব ভালো করে দুবার কষিয়ে তেলের ওপর উঠলে নামিয়ে নিন।

৯।মসুরের ডাল ও কাঁচকি শুঁটকি চচ্চড়ি

উপকরণ : মসুর ডাল ১ কাপ, কাঁচকি শুঁটকি ১০০ গ্রাম, মরিচ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুন কুচি এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, তেল এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ, ফিস সস ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৬টি, পানি ২ কাপ, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালী : শুঁটকি পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। ডাল বাদামি বাদামি করে ধুয়ে ভেজে রাখুন। কড়াইয়ে তেল গরম হয়ে এলে পেঁয়াজ-রসুন কুচি ভেজে গুঁড়া ও বাটা মসলা দিন। সামান্য লবণ দিন। সামান্য পানি দিয়ে মসলা কষিয়ে নিন। মসলা ভালোমতো কষানো হলে কাঁচকি শুঁটকি দিন। শুঁটকি কষিয়ে এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ পানি দিয়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে গেলে ভাজা ডালগুলো দিয়ে দিন। নেড়েচেড়ে দেড় কাপ পানি দিয়ে ঢেকে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। মাখামাখা হলে চেড়া কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে দিন। ডাল সিদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন।

১০।নুনাঝুরি

উপকরণ : নুনা শুঁটকি ২৫০ গ্রাম, মরিচ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি দেড় কাপ, রসুন মোটা করে কাটা আধা কাপ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ চেড়া ৪-৫টি, লবণ স্বাদমতো, তেল আধা কাপ।

প্রণালী : নুনা শুঁটকি পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। শুঁটকির মাঝের মোটা কাঁটাগুলো টেনে ফেলে দিন। এবার কিচেন সিজার দিয়ে শুঁটকির টুকরোগুলো আড়াআড়িভাবে যতটুকু সম্ভব চিকন করে ঝুরি করে নিন। যাতে ছোট কাঁটাগুলো ভালোভাবে কেটে যায়। এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ-রসুন কুচি দিয়ে ভাজুন। ভাজা হলে হলুদ-মরিচ গুঁড়া সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। শুঁটকি দিয়ে আবার ভুনতে থাকুন। প্রয়োজন হলে সামান্য লবণ দিন। কাঁচামরিচ দিন। ভুনা ভুনা হয়ে তেল ছেড়ে এলে নামিয়ে ফেলুন। গরম ভাত বা ভুনা খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

১১। রসুনের কোয়া দিয়ে ছুরি শুঁটকি

উপকরণ : ছুরি শুঁটকি ২ কাপ, পেঁয়াজকুচি আধাকাপ, রসুন দুটি, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, কাঁচামরিচ ফালি কয়েকটা, জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ, তেল ১ টেবিল চামচ ও রসুন বাটা আধা চা-চামচ।

প্রণালী : ছুরি শুঁটকির মাথা ফেলে পরিষ্কার করে টুকরা করে নিন। টুকরাগুলোকে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর পানি ঝরিয়ে নিন।এরপর রসুন থেকে কোয়া আলাদা করে নিতে হবে। তেলে পেঁয়াজ, রসুন বাটা, হলুদ ও মরিচগুঁড়া কষিয়ে শুঁটকি দিয়ে নাড়ুন। অল্প পানি দিয়ে কষান। এবার রসুনের কোয়া দিয়ে ঢেকে দিন। জিরা গুঁড়া ও কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। সেদ্ধ হয়ে তেল ওপরে উঠে এলে নামিয়ে নিন।এবার পরিবেশন করুন গরম গরম ভাপ ওঠা ভাতের সাথে। আবার আটার সাদা রুটি দিয়েও খেতে পারেন।

১২। চিংড়ি শুঁটকি ভর্তা

উপকরন : চিংড়ি শুঁটকি ১ কাপ, টালা শুকনো মরিচ ২/৩ টি পেঁয়াজ কুঁচি ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা স্বাদমত, লবণ স্বাদমত।

প্রনালি : চিংড়ি শুঁটকি ভাল করে ধুয়ে ওপরের সব উপকরণ দিয়ে শিলপাটায় মিহি করে বেটে নিন।আর তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু চিংড়ি শুঁটকি ভর্তা।

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts