ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে করনীয়

চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস বেশ পরিচিত। এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন শুনলে আতঁকে ওঠেন অনেকেই। খাওয়া দাওয়াও কমিয়ে দেন,যা মোটেই ঠিক নয়। বেশকিছু উপায় অবলম্বন করে এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।


ডায়াবেটিস মূলত হরমোন জনিত রোগ। অগ্নাশয় যদি যথেষ্ট পরিমান ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে কিংবা তৈরি ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়,তখন রক্তে শর্করার পরিমান বেড়ে যায়, নানা রকম উপসর্গ দেখা দেয়। অর্থাৎ ডায়াবেটিস হয়।এটি দুই ধরনের, টাইপ ১ এবং টাইপ ২। এছাড়াও নারীদের গর্ভাবস্থায় তৃতীয় এক প্রকার ডায়াবেটিস হতে পারে।



ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে সুস্থভাবে জীবন যাপনের জন্য সঠিক সময়ে সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলে এর জটিলতা যেমনঃ অন্ধত্ব, হৃদরোগ,কিডনি রোগ ইত্যাদি থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

খাদ্যাভ্যাস
ডায়াবেটিক রোগীরা খাদ্যের সাথে কি পরিমান শর্করা,আমিষ ও চর্বি খাবে তা চিকিৎসক বা ডায়াবেটিক সেন্টারে গিয়ে জেনে নিবে। খাদ্যাভ্যাসের পরিমান ও মাত্রা এক এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এক এক রকম। এটি নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স,স্বাস্থ্য, ওজন ও পরিবেশের উপর। সময়মত খাবার গ্রহনও একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবচেয়ে ভালো হয়,দৈনিক খাবারের একটি তালিকা তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমান খাবার গ্রহন করা।

শারিরীক পরিশ্রম  

প্রতিদিন ব্যায়াম করা একজন ডায়াবেটিক রোগীর পক্ষে খুবই উপকারি। এটি শুধু রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণই নিয়ন্ত্রন করে না, ওজন কমাতে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে।
→ব্যায়াম আরম্ভ করার পূর্বে এবং বিশেষ করে ব্যায়ামের ধরন পরিবর্তনের সময় ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেয়া উচিত।
→নিজের শারীরিক উপযুক্ততা অনুসারে আনন্দ- দায়ক ব্যায়ামের বিষয় নির্বাচন করতে হবে।প্রতিদিন এবং সম্ভব হলে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে হাঁটতে হবে।
→মাঝে মাঝে হাঁটার আগে ও পরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা উচিত।
→হাঁটার সময় শর্করা সমৃদ্ধ কিছু খাবার সাথে রাখতে হবে। যে কোন মূহুর্তে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে জাওয়ার ভাব অনুভূত হলে তা খেয়ে নিতে হবে।
→জরুরী অবস্থার প্রয়োজনে নিজের সাথে সব সময় ডায়াবেটিক কার্ড বা সর্বশেষ চিকিৎসা পত্রের ফটোকপি সাথে রাখতে হবে।
→হাঁটার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও চিনিমুক্ত তরল খাবার খেতে হবে।
ব্যায়ামের ধরন ও সময় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশী বা কম হওয়ার উপর ভিত্তি করে খাদ্য ও ওষুধের ধরন এবং পরিমাণ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্রাম

সময়মত ও নির্দিষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম ও ঘুম ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অতি জরুরী। দুপুরের আহারের পর ১৫-২০ মিনিট চোখ বুজে চুপচাপ সটান শুয়ে থাকাত পারলে খুবই ভাল হয়। তবে রাতে ৬-৭ ঘুমানো অপরিহার্য। কারণ রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে এই ঘুমের বেশ বড় ভূমিকা রয়েছে।

ওষুধ ও অন্যান্য  

ইন্সুলিন ও মুখে খাওয়ার বড়ি দ্বারা ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হয়। প্রসূতি ও দুগ্ধবতী মায়েদের চিকিৎসার জন্য ইন্সুলিন ব্যবহার করা যেতে পারে।মনে রাখতে হবে , ইন্সুলিন নেয়ার আগে নাস্তা / খাবার রেডি রেখে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে তারপর ইনসুলিন নেবেন এবং ২০ মিনিট পর আহার করবেন। তারপর অন্য কাজ করবেন। এর মাঝে কোন ভারি কাজ করবেন না। এমনকি গোসলও করবেন না।


যে বিষয়গুলো পরীক্ষা করতে হবে     

→মাঝে মাঝে রক্তচাপ মেপে দেখতে হবে এবং তা অবশ্যই ১২০/৮০মিমি. মার্কারি বা তার নীচে রাখতে হবে।
→ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রতি ৬ মাস পর পর রক্তপরীক্ষা করে দেখতে হবে। নিয়ন্ত্রণে না থাকলে প্রতি তিন মাস অন্তর তা পরীক্ষা করতে হবে।
→প্রতি বছর রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।
→প্রতি বছর কিডনীর কার্যকারীতা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
→প্রতি বছর অন্তত একবার চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে গিয়ে চোখ দেখাতে হবে। অসুবিধা থাকলে মাঝে মাঝে যেতে হবে।
→দাঁতের যত্ন নিতে হবে এবং ৬ মাস পর পর দন্ত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে দাঁত পরিষ্কার করাতে হবে।
→চিকিৎসা কর্মীর কাছে গেলে অবশ্যই পা পরীক্ষা করাতে হবে।
→সংক্রামক ব্যাধির প্রতিষেধক নেয়ার ব্যপারে সচেতন থাকেতে হবে।

Related Posts