ডিজিটাল বেষ্ট ফ্রেইন্ড পর্ব ২

ডিজিটাল বেষ্ট  ফ্রেইন্ড-পর্ব ২

লেখকঃ মোঃ শহীদুল ইসলাম


“ডিনার হইছে”? ----

না, আমি এখনো বাসায় ফিরিনি, 

আপনি?

“হুম”

ও আচ্ছা, আমি কি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি? 

“ জি বলুন”

সত্যি করে বলুন তো আপনি প্রকৃতপক্ষে কে? আর আপনি আমাকে চিনেন কিভাবে, অবশ্যই যদি আপনার আপত্তি থাকে তাহলে বলার দরকার নেই, আমিও এ বিষয়ে আপনার সাথে আর আগাতে চাইনা, সুতারং ভনিতা না করে, দয়া করে আপনি আপনার পরিচয়টা দিলে খুশি হব। তাছাড়া আপনি যেভাবে আমার সাথে আলাপ করতেছেন তাতে আমি এটা নিশ্চিত যে আপনি আমাকে অবশ্যই চিনেন এবং জানেন। 

এই কথা বলে ফাহিম বাসায় ফিরে। নিয়মিত কাজগুলো সেরে রাতের খাবার খায় আর ভাবতে থাকে আসলে কে? আমি কার নামে বিচার দিতাম আর কেই বা আমার উপর অভিমান করতো বা আমি কার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম, কাকেই বা আমার এমন মনে হত। এরকম নানা ভাবনায় ফাহিম অনেক পিছনে চলে গেল। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করেই একটা মেয়ের কথা এবং তার নামটা মাথায় এলো। 

ফাহিম এর পেশাগত জীবনের এই অল্প সময়ে একটা মেয়ের কথাই মনে পড়ে গেল। ঐ মেয়েটি নয়ত? সাথে সাথে সেই মেয়েটির মুখ ভেসে ভেড়ায়। এক সময় ফাহিমের কাছে একটি মেয়েকেই অনেক ভাল লাগতো। নিরবতা, শান্ত ও চেপে চেপে সামান্য কিছু কথা না বললেই নয় এরকম একটি মেয়ে ছিল যার নাম বৃষ্টি। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ঐ মেয়েটি ব্যাচে ফাহিমের কাছে প্রাইভেট পড়তো। যার মায়াবী চোখের বাকা চাহনি আর হালকা চিকন ঠোটের এর মুচকি হাসি আজো ফাহিম কে তাড়া করে বেড়ায়। পেশাগত দিকের কথা আর সামাজিক মান সম্মান এবং ইজ্জত ও নিজকে যেহেতু সমাজের একজন আদর্শ বলে মনে করেন আর এই চিন্তাধারাই সব সময় ফাহিম কে কুঁড়ে কুঁড়ে খেত। তাই ফাহিম শুধু নীরব চোখে দেখেই যেত কিন্তু কখোনো কিছু বলতে পারতো না। নিজের অজান্তেই নিজের কাছে মেয়েটিকে অনেক ভাল লাগতো । কিন্তু নিজ হৃদয়ের অব্যাক্ত কথা নিজের মাঝে চেপে গিয়ে নিজের কাজেই মন দিত সব সময়। ফাহিম এটা জানে যে, এই কাজ তার দ্বারা এ জীবনে সম্ভব নয় কারন সে একজন পেশাগত আদর্শ শিক্ষক তাই তার হৃদয়ের যত বাসনাই থাকুক না কেন অন্তঃত নিজ ছাত্রীর বিষয়ে এরকম ভাবনা ভাবা উচিত নয় আর এটা ভাবাও তার জন্য মহা অন্যায় বলে ফাহিম মনে করে। দিন যায় বছরের পর বছর পেরিয়ে যায় কিন্তু ফাহিম নিজের কথা কোন দিন মেয়েটিকে জানাতে পারেনি। আজ কেন জেন আবার অই মেয়েটির কথায় ঘুরে ফিরে মনে পড়ে গেল। আসোলে ও নয়ত। এরকম নানা জল্পনা কল্পলনায় ফাহিম একাকার।

কিছুতে ঘুম আসছিলনা ফাহিমের, শুধু একটাই ভাবনা বৃষ্টি নয়ত? হুম বৃষ্টিই হতে পারে। এই কথা ভেবে ভেবে ফাহিম আবার মোবাইল টার ডাটা অন করলো। অন করার সাথে সাথে অনেক টিউন এর সুরে মেসেঞ্জারে এস এম এস আসতে লাগলো। অনেক স্বাভাবিক মেসেজ এর ভেতর একটা আইডি থেকে বেশ কিছু এস এম এস এরকম।

“আপনি আমাকে কোনদিন চিনতে পারেন নি আর চেনার ব্যার্থ চেষ্টা করেন নি, তাই আজো আমাকে চিনতে পারনে নি”।

“আপনি শুধু নিজের কাজটাই বেশী করে দেখেছেন আর আমার বিরুদ্দে আমার বাবার কাছে অভিযোগ করেছেন”

“আপনি সেটাই করেছেন যেটা করলে আপনার ভালো লাগতো, আর আমি সে কারনেই একটা সময় আপনার সামনে থেকেও সামনে আসিনি। কারন আপনিত এটাই চেয়েছিলেন যে আমি যেন সব সময় আপনার কাছ থেকে দূরে থাকি। আপনার ইচ্ছাই পূরন হয়েছে, তাইনা”।

“এবার বলেন আপনি কেমন আছেন”

কে বৃষ্টি?

“হুম”

এবার যেন ফাহিমের শরীরের সব রক্ত বিন্দু পা থেকে মাথা পর্যন্ত ২০০ কিঃমিঃ বেগে চলতে লাগলো। হার্টবিট বেড়ে গেল, শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে আসতে লাগলো। কিছু তেই কিছু মিলছে না। এটা কি করে হয় বৃষ্টি! বৃষ্টি আমাকে এস এম এস করেছে! ও আল্লাহ এ তোমার কেমন খেলা, ওরতো বিয়ে হয়ে গিয়েছে তা আজ আমাকে এত অভিমানের এস এম এস কেন? তবে, তবে কি আমি ভুল করেছিলাম, ওকে কিছু না বলে। না তা কেন হবে আমিত কোনোদিন ওকে বুঝতে দেইনি , যা ছিল আমার ভেতরেই ছিল । এই নশ্বর পৃথিবীতে একমাত্র আমি জানি আমার মনে কি ছিল। তবে আজ আমকে ও কেন এভাবে অভিযুক্ত করলো? এরকম হাজারো প্রশ্ন আজ ফাহিমের মনের ভেতর থেকে এতো দিনে পুসে রাখা গুপ্ত বাসনার প্রশ্নগুলো নাড়া দিয়ে উঠলো।

তুমি যে বৃষ্টি এটা প্রমান করতে পারবে?

“হুম কিভাবে?”।

তোমার একটা ছবি দিবা?

“আসোল মানুষটাকেইতো চিনলেন না, আজ ছবি দিয়ে কি করবেন?”

না মানে আমি একটু শিওর হতাম এই আর কি।

“ওকে”

এই বলে বৃষ্টি তাঁর নিজের একটা ছবি দিলো।


ফাহিম দীর্ঘক্ষন অই ছবির দিকে তাকিয়ে ……।

(চলমান)

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts