ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-কে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি বলে অভিহিত করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে বড় চ্যালেঞ্জ হল অর্থের সংস্থান। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তথা আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।


বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজিত বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ : বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সেমিনারে সোমবার এমন অভিমত দেন বক্তারা।


বিআইআইএসএস মিলনায়তনে বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান মুন্সী ফায়েজের পরিচালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম, বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসিন চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ড. সালিমুল হক, ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিওএম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. এম মনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সেমিনারে অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাসহ বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। মূল প্রবন্ধে ড. শামসুল আলম বলেন, ডেল্টা প্ল্যান তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন হবে। প্রথম ধাপ হল ২০১০ সাল, দ্বিতীয় ধাপ ২০৫০ এবং তৃতীয় ধাপ হল ২১০০ সাল। প্রাথমিক ধাপ বাস্তবায়নে সরকারের ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।


এ বিপুল অর্থ জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি এ পরিকল্পনা ক্রমানুযায়ী বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সাল নাগাদ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি আরও ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এ পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান প্রজন্মের সেরা উপহার। এটাকে বলা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এখন থেকেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ডেল্টা প্ল্যানের ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ডেল্টা প্ল্যান সরকারের রূপকল্প ২১০০, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে প্রতিনিধিত্ব করে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিরূপ প্রভাব, প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ অতিদরিদ্র নির্মূল এবং উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আকাক্সক্ষা এ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

Related Posts