থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ও এর ভবিষ্যৎ। পর্ব-২

প্রোটোটাইপিং এ থ্রিডি প্রিন্টিংঃ  

ইন্টারনেট ঘাটলে আপনি প্রটোটাইপিং এর অনেক ধরনের জটিল ও কঠিন উত্তর পাবেন। সহজ করে যদি বলতে হয় প্রোটোটাইপ হচ্ছে একটি প্রাথমিক মডেল। যেমন ধরেন আপনি একটি নতুন ধরনের ড্রেস ডিজাইন করেছেন। আপনি তার প্রথম যে মডেল তৈরী করছেন সেটাই হল ঐ ড্রেসের প্রোটোটাইপ। সাধারনত পোষাকের ক্ষেত্রে শব্দটা ব্যবহার করা না হলেও বোঝার সুবিধার্থে উদাহরণস্বরূপ ব্যবহার করেছি। 


আপনারা হয়তো খেয়াল করে থাকবেন প্রতি নিয়তই বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানি, গাড়ি কোম্পানি,  ইলেকট্রনিকস ইকুইপমেন্ট কোম্পানি যেমন টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন নির্মাতা কোম্পানি গুলো নতুন ফিকচার সংযোজন করে নতুন মডেল বাজারে আনছে। আর এটা করছে কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে। আপনি যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন আপনার বাসার লাইট পোষ্ট, সুইচ, পানির টেপ, কলিং বেল এমন কি দরজার তালাটারও মডেল দিন দিন আপডেট হচ্ছে। মানুষের জীবন যাত্রার মানের সাথে সাথে রুচির পরিবর্তন হচ্ছে, সামাজিক অবস্হান নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। আর এসবকে পুঁজি করে কোম্পানিগুলো নতুন নতুন মডেল বাজারে আনছে। 


এ পরিবর্তন গুলো আপনি চোখে দেখছেন। কিন্তু যে গুলো আপনি দেখছেন না সেগুলো?


 আপনি তো জানেনই জার্মানি ও আমেরিকার মধ্যে, চীন ও ভারতের মধ্যে সব সময় একটা শীতল যুদ্ধ চলমান রয়েছে? আপনি যেটা জানেন না তা হলো দেশগুলো পাল্লা দিয়ে তাদের সামরিক সরঞ্জামের আপগ্রেডের কাজ করছে। আজ জার্মানি একটি নতুন যুদ্ধ বিমান তৈরী করলে ছমাসের মধ্যেই আমেরিকা সেটাকে টক্কর দেওয়ার জন্য অন্য একটি মডেল এর বিমান তৈরী করছে। চীন একটি নতুন ফিচারের মিসাইল লাঞ্চ করলে ভারত তাকে পাল্লা দিয়ে আরেকটি।

 

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে প্রোটোটাইপ আর থ্রিডি প্রিন্টিং এর এখানে কি সম্পর্ক? এ সম্পর্কের রহস্য উদঘাটন করতে হলে আপনাকে পেছনের দিকে পৃষ্ঠা উল্টাতে হবে। 


আমি সহজভাবে একটি মোবাইল দিয়েই বোঝাই। একটা নতুন মডেলের মোবাইল বাজারে আনতে হলে কি কি ধাপ পেরোতে হয় আপনি কি তা জানেন? যদি জেনে থাকেন তাহলে তো ভালই আর যদি না জানেন আমি আপনাকে সাহায্য করছি। 


- সবার প্রথমে মোবাইল ফোনটির মাডার বোর্ডের একটা সার্কিট ডায়াগ্রাম তৈরী করতে হবে।

- মনিটর ও সেন্সর এরও সার্কিট ডায়াগ্রাম তৈরী হবে।

- অপারেটিং সফটওয়্যার মাডার বোর্ড, মনিটর ও সেন্সরের উপযোগী করে তৈরী হবে। 

- মোবাইল ফোনটির মাডার বোর্ড,  মনিটর,  সেন্সর, ব্যাটারী ও মেইন বডি বা কেসিং এর ভার্চুয়াল মডেল তৈরী করতে হবে। 

- তার পর মূল অংশ অর্থাৎ একটি প্রাথমিক মডেল  বা প্রোটোটাইপ তৈরী করতে হবে। 

- এই মডেলটির কার্যকারিতা যাচাই করে যদি কোন সংযোজন বিয়োজন থাকে সেটা সম্পন্ন করে মডেলটির সর্বোচ্চ পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে যদি সেটা কাঙ্খিত কার্যকারিতা প্রদানে সক্ষম হয় তবে তা ব্যবসায়িক উৎপাদনের জন্য অনুমোদন নিতে হবে। 

- অনুমোদন সম্পন্ন হলে যদি পূর্বে কারখানা থাকে তাহলে তাতে নতুন মডেল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংযোজন/বিয়োজন করতে হবে। 

- যদি নতুন উৎপাদন শুরু করতে হয় তবে প্রতিটি অংশ নির্মান ও সংযোজনের জন্য আলাদা ওয়ার্ক স্টেশন তৈরী করতে হবে।

- তার উৎপাদন ও বাজার জাত।


এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কার্যকারিতা যাচাই।  ভালো করে যাচাই বাছাই না করে পন্য বাজারজাত করলে লোকসানে সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। সুতরাং কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য প্রোটোটাইপ নির্মান আরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 


আর মূল সমস্যাটা এখানে। কারণ একটা প্রোটোটাইপ তৈরীর জন্য তো আপনি আলাদা করে স্পেয়ার পার্টস তৈরীর কারখানা তৈরী করতে পারবেন না কেননা সেটার ব্যয় সংকুলান করাটা কারো পক্ষেই লাভজনক হবে না। সোজা কথায় সেটা Cost Efficient নয়। তাহলে আপনি প্রোটোটাইপ কিভাবে তৈরী করবেন?


এ সমস্যায় সমাধানের হাত প্রসারিত করেছে থ্রিডি প্রিন্টিং টেকনোলজি। কারণ এই প্রযুক্তিতেই সম্ভব কম্পিউটারে ইচ্ছে মত থ্রিডি  মডেল তৈরী করে প্রয়োজনীয় কাচামাল যেমন প্লাস্টিক পাউডার বা মেটাল পাউডার ব্যবহার করে একটি মাত্র মডেল তৈরী করা যা প্রোটোটাইপ তৈরীর জন্য সত্যিই Cost Efficient. 


আশা করি আপনি খুব সহজেই বুঝে গিয়েছেন বর্তমান আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় থ্রিডি প্রিন্টিং কতটা গুরুত্ব বহন করে। 


"থ্রিডি প্রিন্টিং ও এর ভবিষ্যৎ" এর সামনের পর্বে আশা রাখছি থ্রিডি প্রিন্টিং টেকনোলজির অন্য একটি ম্যাজিক শো নিয়ে আসবো। সে পর্যন্ত ডি ব্লগের সাথেই থাকুন।

Related Posts