দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ মেলে সালাতে

সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত সালাত। ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগকারীর ইমান থাকে না।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালার বাণী হচ্ছে : ‘তবে এখন যদি তারা (সালাত ত্যাগকারী) তাওবা করে ও জাকাত আদায় করে তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই (সূরা আততাওবা-১১)।

কাজেই যে ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে সে কুফরি করে (সহিহ মুসলিম)। কুফরি করার অর্থ কী দাঁড়ায় আমরা নিজেরাই তা বুঝে নেয়ার চেষ্টা করি।

সালাত সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত কেন তার কারণ সালাতের মধ্যেই রয়েছে ইমানের দৃঢ়তা, স্বীকারোক্তি, আল্লাহকে সব কিছুর দাতা মেনে তাঁরই কাছে বান্দার চাওয়া-পাওয়ার সব ধরনের উপকরণ যা আমলে রূপান্তরিত করতে হয়। এ জন্যই আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বলেছেন ‘তোমরা সালাতের মাধ্যমে প্রার্থনা করো (সূরা বাকারা-১৫৩)।

এখন দেখা যাক, সালাতের মধ্যে কীভাবে ইমান, আকিদা, দোয়া ও আমল রয়েছে। ইমানের রুকন ৬ (ছয়টি) যা সবারই জানা। (১) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা আল্লাহপাকের ওপর। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা। অন্তরে বিশ্বাস, মুখে উচ্চারণ এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা। (২) বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে ফেরেশতাকূলের ওপর (৩) আসমানি কিতাবগুলোর ওপর (৪) তাঁর রাসূলদের ওপর, এ জামানার উম্মত হিসেবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য ও অনুসরণ করা (৫) আখেরাত ও শেষ বিচার দিবসের ওপর এবং (৬) তাকদিরের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস রাখা। সমগ্র সালাতে এসব উপকরণ রয়েছে এবং এর অতিরিক্ত আল্লাহর কাছে বান্দার চাওয়া-পাওয়া ও বান্দার জীবনে ঘটে যাওয়া গুনাহগুলো মার্জনার আর্জিগুলো রয়েছে।

আমরা যখন সালাতে দাঁড়াই তখন আল্লাহর উদ্দেশ্যেই দাড়াই এবং প্রত্যেক ফরজ সালাতে একামত দিয়ে থাকি। প্রথম বাক্যেই আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ বলি)। এরপর ধারাবাহিকভাবে স্বীকার করি তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর রাসূল, সৎকর্ম করতে এবং অসৎকর্ম থেকে বেঁচে থাকার জন্য তোমারই সাহায্য চাই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ স্বীকারোক্তি দিয়ে সালাত শুরু করি। তাকবিরে তাহরিমা দেয়ায় আল্লাহর প্রশংসামূলক বাক্যাদি বলে ইবাদতের জন্য একমাত্র আল্লাহকেই সাব্যস্ত করে থাকি। প্রথমেই ইমানের দুটি রুকন বলি। সূরা ফাতিহাসহ কোরআনের যে কয়েকটি বাক্য পাঠ করি এর মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবকে মানা হল। সূরা ফাতিহা পাঠের সময় মালিকীইয়াও মিদ্দীন বলে শেষ বিচার দিবসের ওপর এবং শেষের দু’বাক্য দিয়ে তাকদিরে যেন তার নেককার বান্দাদের দলভুক্ত করা হয় এবং বিপথগামীদের থেকে দূরে রাখার আবেদন জানিয়ে তাকদিরের রুকন পূর্ণ করে থাকি।

রুকুতে বাঁকা হয়ে এবং সেজদাতে সম্পূর্ণ অঙ্গগুলো তাঁকে সমর্পণ করে তাঁর প্রশংসা করে থাকি। সেজদায় সুবহানা রাব্বিয়াল আলা বলার অতিরিক্ত সুববুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা রাব্বুল মালাইকাতি ওয়াররুহু বলি। তাহলে ইমানের আরেকটা রুকন ফেরেশতাকূলের ওপর ইমান আনা হল।

তাশাহুদ (আত্ত্বাহিয়াতু) পাঠের সময় আবারও স্বীকারোক্তি দিচ্ছি যে, আমাদের দৈহিক, বাচনিক, আর্থিকসহ যাবতীয় ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত। নবী (সা.)-এর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষণের আবেদনসহ সব মুমিন মুসলমানদের জন্যও একই আর্জি পেশ করা হয়ে থাকে। নবী (সা.) এবং তার পরিবার পরিজনের ওপর দরুদ ও সালাম পেশের পর দোয়া মাসুরায় নিজের জীবনে সৃষ্ট পাপরাশির মার্জনা ভিক্ষা করা, কবরের আজাব ও দোজখের আগুন থেকে রেহাই, পাওয়া দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চেয়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে সালাত শেষ করি।

সালাতের বিষয়বস্তুর দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, সালাত সম্পূর্ণ ইমান, আক্বিদা ও দোয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্তর দিয়ে বাচনিক শব্দচয়ন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আল্লাহর উদ্দেশে সমর্পণ করে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চাওয়াই হচ্ছে সালাত। এভাবে সালাতের মাধ্যমে প্রার্থনা করতেই সূরা বাকারার ১৫৩ নং আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বলেছেন।

এ জন্যই কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে সালাত ত্যাগকারীর ইমান থাকে না। তাই সালাতই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। দ্বীনের পথে থাকার জন্য আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা আমাদের সবাইকে নিয়মিত সালাত আদায় করার তওফিক দান করুন।

    Tags :

Related Posts