পলাশী মোড়

ঢাকায় আসার এক বছরের মধ্যে পলাশী

নামক জায়গায় কখনো যাওয়া হয়নি যাওয়ার দরকারও হয়নি তাই হয়তো হয়নি।

তারপর কতদিন কেটে গেলো কত ভাবে!

আর তারই মধ্যে নিয়তির কোন এক খেলায়

তার সাথে দেখা, তাকে ভালো লাগা। আস্তে আস্তে পরিচয় হলো, কিছুদিন গেলো..! 


তারপর, একদিন তাকে বাসায় এগিয়ে দিতে যাওয়া। রাত সাড়ে নয়টা দুজন বের হয়ে রিক্সা নিলাম। প্রথমবারের মত তার পাশে বসা, সে এক অন্যরকম অনুভূতি.!

নিউ মার্কেট পর্যন্ত যাওয়ার পর সে বললো চলেন হাটি। হাটা শুরু করলাম, কথা বলতে বলতে। লাইফে প্রথমবারের মত তার সাথে পলাশীর মোড়ে পৌছালাম।


হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো অনেক কষ্টে আরেকটা

রিক্সা ঠিক করে আবার পথচলা শুরু। ঝুম বৃষ্টিতে দুজন একটা পলিথিনের আড়ালে বৃষ্টি থেকে বাঁচার চেষ্টা। বাসার কাছাকাছি চলে আসায় সে নেমে গেলো। বাকিটা পথ বৃষ্টিতে ভিজে গিয়ে নিজের ছাতাটা আমাকে দিয়ে গেলো। যা দেখে ভালো লাগাটা বেড়ে গেলো কয়েকগুন।


এভাবেই প্রতিরাতে টিএসসি, ফুলার রোড,

পলাশী হয়ে তার বাসায় ফেরা,আর সাথে আমি! কখনো রিক্সা, কখনো হেটে আবার কখনো বা বসে কত শত কথা কত আড্ডা, কত খুনশুটি, কখনো হাসি বা কখনো কান্না, কখনো রাগ কখনো বা অভিমান। সব ছাপিয়ে ভালোবাসাটাও ছিলো অফুরন্ত।


আহা! সেকি ভালো লাগা..! দেখার জন্য পথে বসে থাকা, দেখার জন্য বার বার ছুটে যাওয়া। আরও কত শত বাহানা। বাহানা করবোই বা না কেনো? বার বার দেখেও যে মন ভরতো না।


মেয়েটিকে দেখে দেখেই কেটে গেলো আরো কিছু দিন। তাকে বাসায় পৌছে দিয়ে ফেরার পথে তাকে নিয়ে কতশত প্লান আর ভবিষৎ ভাবনা চিন্তায় বিভোর থাকা। ছিলো কত চোখাচোখি কত রোমান্টিকতা। কোনদিন বৃষ্টি, কোনদিন ঝড় মাথায় নিয়ে, কোনদিন হাসি মূখে আবার কোনদিন কষ্ট নিয়ে বাসায় ফেরা। ফেরার পথে তার কল পেতাম, পৌছেছি কিনা? খেয়েছি কিনা.?


একদিন আমি গ্রামে গেলাম। ব্যাস্ত থাকার কারনে ঐ দুটা দিন ঠিকমত কল দিতে পারিনি, সে কি রাগ...! ঢাকায় ফিরে অনেক কষ্টে কত প্রমিজের বিনিময়ে রাগ ভাঙ্গানো। আবার তার কিছুদিন পর সে বারণ করা সত্ত্বেও অফিস কলিকদের (মেয়ে) সাথে একটু কাজে গিয়েছিলাম। যা সে মানতে পারেনি। খুব অভিমান করেছিলো আর মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছিলো আমাকে কলিকদের নিয়ে। আমি শুধু হাসতাম আর ভাবতাম আসলেই কি সে এতটা ভালোবাসে আমাকে.....?


ভালোই চলছিলো, তার ভালোবাসা আর কেয়ারিং পেয়ে নিজেকে সুখি মানুষগুলোর একজন ভাবতে শুরু করেছিলাম।কিন্তু সব সুখ সবার কপালে সয় না বলেও একটা কথা আছে। হলোও তাই।

তার ফ্যামিলিতে তার বিয়ের কথা হচ্ছিলো। কি করবে জানতে চাইলো যেহেতু দুজনের কেউই পালিয়ে বিয়ে করার পক্ষে না, তাই বললো বাসায় জানতে। কিন্তু তখন আমার পারিবারিক, আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে যা একে বারেই মেমানান। এছাড়াও আরো কিছু সমস্যা ছিলো তার আমার দুজনেরই। তাই আমি চুপ রইলাম।


লাইফের অনেকটা জার্নি এখনো বাকি আবার। তাকে পাবার আশা করে ফ্যামিলি হারাতে পারিনা। কারন, আমি জানতাম পরিবার কে তার কথা জানালেও কোন সাড়া পেতাম না। তাই পরিবার আর তার মধ্য থেকে আমি পরিবারকেই প্রাধান্য দিলাম কারন  আমার পরিবার আমাকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখে তা আমার তাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। স্বার্থপরতা আমি দেখিয়েছি ঠিকই সেটা পরিবারের স্বার্থে আমার স্বার্থে নয়।


এতসব কিছুর পরও এই ভেবে ভালোলাগে যে, আমি  যেমনই থাকিনা কেনো সে অন্য কোথাও গিয়েও ভালো আছে। যা আমি চেয়েছিলাম, চাই এবং চাইবো।


আজ আবার আসলাম সেই পলাশী মোড় আর ফুলার রোডে।রিক্সায় বসে আছি অথচ মনে হচ্ছে, ওই তো রাস্তার পাশে তার হাতটি ধরে বসে আছি সেই আগের মত। ভাবতেই পিছনে ফিরে যাওয়া। তার দূষ্টামী, তার সেই হাসি, আর মারামারি গুলোকে মিস করা। পরক্ষনেই অনুভব করলাম চোখের কোনে একফোটা জল। যার অর্ধেক আনন্দ আর বাকীটা তোকে না পাবার এতটুকু যন্ত্রনা।


ভূলতে পারবোনা কোনদিন তাকে আর তার স্মৃতি বিজরীত জায়গা গুলোকে। হারাতে দিবো না তার দেয়া স্মৃতি আর উপহার গুলোকে। খুব মিস করি তার হাতে হাত রেখে পাশাপাশি হাটা টা কে।

শুভ কামনা ভালো থাকুক সে। ক্ষমা করুক আমাকে, জানিনা কিসের আশায়! কি বুঝে ভালোবেসে ফেলেছিলাম তাকে। ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষ।

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts