পুরোনো কাসুন্দি। পর্ব-১

কম্পিউটার মেমোরি 

কম্পিউটার প্রযুক্তির সেরা উপহার এটা যে কেউ মানতে বাধ্য। ঘরের দরজার তালা থেকে শুরু করে টয়লেটে ফ্লাশ সবই এখন কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই কম্পিউটারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মেমোরি। স্মৃতি ছাড়া মানুষ যেমন অচল কম্পিউটারও তেমনি মেমোরি ছাড়া সম্পূর্ণ রূপে অচল। 


মানুষের স্মৃতির সাথে কম্পিউটারের মেমোরির অনেক মিল। একটা কম্পিউটার চালাতে তিন ধরনের মেমোরির দরকার হয়।এই মেমোরি গুলোর নাম আমরা জানলেও অনেকেই বুঝিনা কোনটার কি কাজ। কম্পিউটারের সুচনা লগ্ন থেকেই মেমোরির ব্যবহার হয়ে আসছে। এই পুরোনো কাসুন্দিই আপনাদের সামনে নতুন করে পরিবেশন করার চেষ্টায় কিবোর্ড ধরলাম। 

কম্পিউটারের মেমোরি গুলো হলঃ

১৷ ROM (Random Access Memory).

২। RAM ( Read Only Memory).

৩। Bulk Storage/ Magnetic Storage/ HDD ( Hard Disk Drive).

ROM: ROM মূলত একটি Non-Volatile মেমোরি। মূল সমস্যা এ Non-Volatile শব্দটাতেই। এটা আমাদের অনেকেরই বুঝতে অসুবিধা হয়। একটু সহজ করে দেই। আপনি কি আপনার নিজের নাম কখনো ভুলে যাবেন? কিংবা আপনার বাড়ির ঠিকানা, আপনার পরিবারের সদস্যদের নাম? কোন মানসিক সমস্যা বা বার্ধক্য জনিত কারণ ছাড়া এগুলো আমরা কখনো ভুলে যাই না। এমন আরো অনেক স্মৃতি আছে যা আমরা একবার ভালো করে শিখে নেওয়ার পর কখনো ভুলে যাই না। যেমনঃ সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, বাংলা-ইংরেজী বর্ণমালা, যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ ইত্যাদি। আর আপনি খেয়াল করে দেখুন আপনার দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার জন্য এই স্মৃতিগুলো অত্যাবশ্যকীয়। শুনতে খারাপ শোনালেও একবার ভেবে দেখুন আপনি যদি বাসা থেকে বাইরে যাওয়ার সময় কাপড় পরতে ভুলে যান তাহলে ব্যপারটা কেমন হবে? আমি জানি সেটা আপনি মানসিকভাবে সুস্থ থাকা অবস্হায় অসম্ভব। 

এতগুলো বাজে কথা এজন্য বললাম কম্পিউটারের ROM হচ্ছে এমন একটা মেমোরি যা মুছে ফেলা যায় না। আর এতে এমন কিছু প্রোগ্রাম ধরে রাখা হয় যা না হলে কম্পিউটার চালানো সম্ভব নয়। সাধারনত এই মেমোরিতে থাকা তথ্যগুলো পরিবর্তন বা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। যদিও বর্তমানে EROM (Erasable Read Only Memory) এবং EEROM ( Electrically Erasable Read Only Memory) পাওয়া যায় যেগুলোর মেমোরি যথাক্রমে Ultra Violate Light ও Electrical Field  প্রয়োগ করে মুছে ফেলা সম্ভব। 

RAM: এটি মূলত একটি Volatile মেমোরি। মানুষের স্মৃতির সাথে তুলনা করলে উদাহরণ স্বরূপ বলতে হয় আপনি অফিস যাওয়ার সময় যে রিক্সায় চড়েছিলেন সেই রিক্সার চালকের পোষাকের রং আপনার কি মনে আছে? হয়তো আছে কিন্তু দুদিন পর আর থাকবে না। চারদিন আগে দুপুরে কি খেয়েছেন তাও আপনার মনে থাকার কথা নয়। হ্যাঁ, প্রতিনিয়ত আমাদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার সময় এমনই কিছু স্মৃতি জমা হচ্ছে আবার মুছে যাচ্ছে। এটাই Volatile মেমোরি। কম্পিউটারে বিভিন্ন এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এ কাজ করার সময় কিছু তথ্য প্রতিনিয়ত সংযোজন হয় আবার মুছেও যায়। আর এ কাজের জন্যই  RAM.


HDD: আমরা যা পড়াশুনা করি তা কিন্তু সম্পূর্ণভাবে আমাদের মনে থাকে না। যখন ভুলে যাই আবার তা বই থেকে দেখে নিতে পারি। বইটা একটা তথ্য ভান্ডার। সুতরাং বই সব তথ্যও ধরে রাখে। HDD ও তাই। আশা করি যারা কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাদের এর থেকে বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নাই। 


আমার মাঝে মাঝে মনে হয় কম্পিউটারকে মানুষের সাথে মিল করে তৈরী করা হয়েছে। কথাটা সত্যি হোক বা না হোক কম্পিউটার যে ধিরে ধিরে মানুষের সব কাজ গুলোকে নিজের করে নিচ্ছে এ কথা মানতে হবে।


সবশেষে একটা তথ্য। আপনি শুনে অবাক হবেন মানুষকে Hypnotize করে তার স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব? বাটি চালান দেওয়ার কথা শুনেছেন কখনো? একদিন Hypnotize নিয়েও কিবোর্ড চালান দেব আশা রাখি। আজ এটুকুই। ব্লগটি ভালো লাগলে লাইক দিতে ভুলবেন না।

Related Posts