পুরোনো কাসুন্দি-২। সচেতন-অবচেতন

মন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল সফটওয়্যার। সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত কোন সাধারন মানুষের পক্ষে এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম করা প্রকৃতপক্ষে অসম্ভব একটি ব্যাপার। মানুষের মনের মত একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম করতে না পারলেও মানুষ সৃষ্টির আদিকাল থেকেই চেষ্টা করেছে মানুষের মনের ব্যবচ্ছেদ করে এর ইতিবৃত্ত বের করতে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগেও এই মন নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা রয়েই গেছে। আমি আমার এই ব্লগটিতে আজকে সেরকম একটি প্রচেষ্টা চালানোর প্রয়াস রাখছি। 


মন নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই আমাদের সামনে আসে মানুষের মনের ধরনের কথা। সকল মনোবিজ্ঞানীরা এই মন নিয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে দুই ধরনের মনের কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উল্লেখ করেছেন। এর প্রথমটি হলো সচেতন মন এবং অপরটি হলো অবচেতন মন।


মানুষের সচেতন মনের সাথে সবাই মোটামুটি ভাবে পরিচিত। মানুষ তার দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে যে সফটওয়্যার টি সেটি হচ্ছে সচেতন মন। এই সচেতন মনের কিন্তু বেশ কয়েকটি স্তর রয়েছে। 


প্রথমত মানুষ যখন তার আশেপাশের মানুষের সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা চালায়, স্বাভাবিক কাজকর্ম চালায় তখন মানুষ তার মনের একটা স্তরে অবস্থান করে। এটা মানুষের  সচেতন মনের সাধারণ স্তর।


মানুষের সাথে মানুষের কথাবার্তা সব সময় স্বাভাবিক থাকে না। আপনি আশেপাশে তাকালেই দেখবেন এমন কি আপনার নিজের পরিবারের ভিতরেও দেখবেন কখনো কখনো মানুষ তার আশেপাশের মানুষের উপর রেগে যায়।  মানুষ যখন রেগে যায় তখন আর সেটা সাধারণ স্তরে থাকে না। মানুষ যখন এই রাগের স্তরে থাকে তখন মানুষ তার স্বাভাবিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। মানসিক এই স্তরে থেকেই সাধারণ মানুষ হত্যা করার মত অপরাধ করতেও পিছপা হয় না। 


তবে যারা পেশাদার হত্যাকারী তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। ধরুন আপনি একজন পেশাদার হত্যাকারী সে ক্ষেত্রে আপনি চাইলে আপনার মনকে সাধারণ স্তরের রেখেও আপনার কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন আবার প্রয়োজনবোধে আপনি রাগের স্তরে আপনার মনকে নিয়ে গিয়ে আপনি আপনার হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করতে পারেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করে। কথাটি মজা করে বলা হলেও একজন পেশাদার হত্যাকারী তার মনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এটা গেল দ্বিতীয় স্তর।


তৃতীয়ত মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে সেটা হলো মানুষের মনের অচেতন স্তর। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন সেটা হল অচেতন আর অবচেতন কিন্তু একই বিষয় নয়। ধরুন আপনি কোন কারনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন এটাও মনের অচেতন স্তর। তবে তফাৎ হচ্ছে এটাই, জ্ঞান হারানোটা অস্বাভাবিক কিন্তু ঘুমটা স্বাভাবিক এবং ঘুমের ভিতরে মনের এই অচেতন স্তরকেও দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 


আমরা যারা বাঙালি তারা একটা কথার সাথে খুব পরিচিত তা হল 'মরার মত ঘুমানো'। আপনি যখন সত্যিই মরার মত ঘুমাতে থাকেন তখন কিন্তু আপনার মন এক গভীর অচেতন অবস্থায় থাকে। তবে এই অচেতন অবস্থা আপনি যখন স্বপ্ন দেখতে থাকেন সেই অবস্থা থেকে কিছুটা ভিন্ন। যখন স্বপ্ন দেখেন তখন আপনার সচেতন মনের সাথে আপনার অবচেতন মনের একটা সংযোগ ঘটে। কিন্তু এখানে সমস্যা একটাই সেটা হলো তখন আপনার সচেতন মনটা কিন্তু অচেতন অবস্থায় থাকে। 


আপনার সচেতন মনের সচেতন অবস্থাতেও কিন্তু অবচেতন মনের সাথে সংযোগ ঘটে।  এটা কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে আপনারা চিন্তা করতে থাকুন, আমি আমার চিন্তার সংযোগ ঘটাবো পরবর্তী ব্লগে। আশা করি লাইক দিয়ে অপেক্ষায় থাকবেন।

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts