প্রযুক্তিতে প্রতিরক্ষা। পর্ব-১

ক্যালিফোর্নিয়ার হাইওয়ে আই-৯৫ এ দুজন হাইওয়ে পেট্রোল অফিসার ডিউটি করছিলেন স্পীড লিমিট কেউ ভাঙ্গে কি না তা দেখার জন্য। পাহাড় বেয়ে নেমে আসা গাড়ী গুলো যেন নির্ধারিত গতিসীমায় থাকে পাশাপাশি গতিসীমা যারা ভাঙ্গছে তাদের লক্ষ্য নির্দিষ্ট করার জন্য বহণ যোগ্য এক ধরনের "রাডার" এর সহায়তা নিচ্ছিলেন তারা।


হঠাৎ করেই রাডারে তারা দেখতে পেলেন একটি বস্তু প্রায় ৩০০ কিমি/ঘন্টায় ছুটে আসছে যেটা আসলে অসম্ভব ব্যাপার।অফিসার বিষয়টি লক্ষ্য করে রাডারের কোন গড়বড় ভেবে রিসেট দিলেন রাডার। কিন্তু রাডার রিসেট হবার বদলে রাডার একেবারে বন্ধই হয়ে গেল। ঠিক এই সময়েই একটি এফ-১৮ হর্ণেট তাদের প্রায় মাথা ছুঁয়ে উড়ে গেল তীব্র শব্দে গোঙ্গাতে গোঙ্গাতে।অফিসাররা বুঝতে পারলেন রাডারের মাথা খারাপ হয় নি তখন। বরং রাডার লো-অল্টিচ্যুডের ট্রেনিং এ থাকায় এফ-১৮ কেই লক করে ফেলেছিল। 


বিমানের হাতে এহেন হেস্তনেস্ত হওয়ায় অফিসার দুজন নিকটস্থ এয়ার বেইস কমান্ডারের নিকট অভিযোগ করেন নিজেদের অফিসের মাধ্যমে আর তার জবাবও আসে বেশ চমকপ্রদ।


"আপনার অভিযোগের জন্য ধন্যবাদ।আমরা এখন আমাদের রিপোর্ট পুরোপুরি ভাবে লিখে শেষ করতে পারব।


আপনি জেনে খুশি হবেন যে,এফ-১৮ এর চতুর কম্পিউটার খানা আপনাদের রাডার লকের কারণে সতর্ক হয়ে উঠেছিল এবং সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় আত্মরক্ষার অংশ হিসাবে কোন নির্দেশনা ছাড়াই জ্যামিং বিম ছোঁড়ে যার কারণে আপনাদের রাডারটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। 


সশস্ত্র এই বিমানটি ট্রেনিং এর কারণে পুরো "যুদ্ধবস্থাকালীন" পরিবেশে ছিল, ফলে একটি "আর্মড এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইল" আপনাদের  লোকেশন লক করে ফেলেছিল সম্ভাব্য শত্রু রাডার ধ্বংস করেফেলার জন্য। তবে আমাদের অভিজ্ঞ পাইলট ঘটনা আঁচ করতে পেরে দ্রুত "স্বয়ংক্রিয় আত্মরক্ষা" অবস্থা থেকে সিস্টেমটিকে "স্বাভাবিক" পরিস্থিতে নিয়ে আসেন। ফলে মিসাইলটি আর সম্ভাব্য  শত্রুর রাডারের দিকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ছুটে যায় নি। 


এফ-১৮ হর্নেটটির পাইলট পরামর্শ দিয়েছেন যে, আপনি যখন উড়ন্ত কোন ফাইটারের বিরুদ্ধে গালাগালি করবেন, অন্তত: মুখ বন্ধ রাখবেন। তিনি জানালেন এফ-১৮ এর ভিডিও করার ব্যবস্থা একেবারে "ফার্স্ট-ক্লাশ"।রাডার অফিসার "সার্জেন্ট জনসন" যিনি নষ্টের গোড়া রাডার খানা ধরেছিলেন আমরা পরামর্শ দেব তিনি যেন অতিদ্রুত তার ডেন্টিস্টের সাথে যোগাযোগ করেন। উনার বামদিকের পাশে দাঁতের ফিলিং নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই, আর উনার হোলস্টার( পিস্তল রাখার ব্যাগ) এর বাকল ও ভেঙ্গে গেছে। "


কিছুটা ঠাট্টা মজায় উপস্থাপন করলেও এটা কিন্তু অবশ্যই ভাববার বিষয ৩০০ কিমি/ঘন্টায় চলমান একটি বিমান থেকে কত নিখুত ছবি নেওয়া সম্ভব। 


পরামর্শ হলো, হা করে তাকিয়ে থেকে বিমান দেখবেন না। অবশ্যই মুখ বন্ধ রাখবেন।


    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts