বাউলদের কোনো দেশ নাই

বাউল সঙ্গীত মানুষেরই জীবন গাথা। ধর্ম-বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে জাগতিক জীবনের সংস্কৃতির এক আরাধনা। মানবজাতির সুখ ও কল্যাণের জন্য বাউলরা অকৃত্রিম ধ্যান, জ্ঞান, লোকজ চিন্তাশক্তির উত্সরণ করছেন বাউল সঙ্গীতে। উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত বাউল শিল্পী পার্বতী বাউল এ কথা বলেন। শিল্পকলা একাডেমি আয়োজতি বাউল সঙ্গীত কর্মশালার শুরুতে তিনি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে এ বক্তব্য রাখেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত এই শিল্পী শিল্পকলা একাডেমিতে তিন দিনব্যাপী বাউল সঙ্গীত কর্মশালা পরিচালনা করছেন।

শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা ভবনে আয়োজিত কর্মশালায় একাডেমির ৪২ জন সঙ্গীত ও বাউল শিল্পী অংশ নিয়েছেন। পার্বতী বাউল বলেন, কথায় বলে—‘মন গরিবের কি ঠিকানা! বাউলদের কোনো দেশ নাই। তারা পৃথিবীর সন্তান। সঙ্গীত সাধক। তারা ঘুরে ফিরে মানবজাতির কল্যাণে নিরলসভাবে সাধনা করেন। সঙ্গীত জগতের একেবারে মূলপর্বের আদিঅন্ত নিয়ে কাজ করেন। গানে কথায়, আচার, আচরণে, বসবাসে, চলাফেরায় এবং সুরের মাধ্যমে বাউলরা মানুষের ভালবাসা অর্জন করেন। শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব একটা দল রয়েছে বাউল শিল্পীদের। এই দলটির পরিবেশনা, মেধা বিকাশের জন্য এই কর্মশালার আয়োজন।

উদীচীর সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপ্তি: অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রত্যয় জানিয়ে শেষ হলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপণী আয়োজন। দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে থাকা উদীচীর তিন শতাধিক জেলা ও শাখা সংসদের সদস্যরা যোগ দিয়েছিলেন এ আয়োজনে। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ছিল কর্মী-সংগঠকদের স্মৃতিচারণ পর্ব। সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পর্ব। এতে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী এবং এফ মাইনর। এছাড়া, একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার ও বিমল দে, বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী সোহানা আহমেদ, তানভীর আলম সজীব, লিজু বাউলা, অংশুমান দত্ত অঞ্জন, উদীচী জামালপুরের তরুণ শিল্পী ইউনুস আলী প্রমুখ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী কাজী মদিনা এবং জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। এর আগে ছিল আলোচনা পর্ব।

 

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts