বাণিজ্য মেলায় খণ্ডকালীন চাকরিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এখন আর মাসব্যাপী বেচাকেনা কিংবা বিনোদন কেন্দ্র নয়। এতে প্রতিবছর কয়েক হাজার তরুণ-তরুণীর খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে।

তাই তরুণরা বছরজুড়ে তাকিয়ে থাকেন এই মেলার দিকে। খণ্ডকালীন হলেও বাণিজ্য মেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। বড় অঙ্কের সম্মানীর পাশাপাশি তারা অর্জন করছে অভিজ্ঞতা।

বরাবরের মতো এবারের মেলায়ও অনেক তরুণ-তরুণী খণ্ডকালীন কাজ করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে এক মাসের জন্য কর্মী নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেলায় খণ্ডকালীন চাকরিতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের। সেক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বেশি সুযোগ পেয়ে থাকেন।

গত বছরের মেলায় ছয় শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার এর চেয়ে বেশিসংখ্যক খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্য মেলায় এক মাস খণ্ডকালীন চাকরির জন্য কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ভেদে ১০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। এছাড়া সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, বিকালের নাশতা, রাতের খাবার, প্রতিষ্ঠান ভেদে মোবাইল ফোন খরচ এবং যাতায়াত খরচও দেয়া হয়। এর বাইরে কেউ চাইলে এক মাসের কাজের অভিজ্ঞতার সনদও দেয়া হয়, যা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বা অন্য কোথাও চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখানো যায়।

মেলায় খণ্ডকালীন চাকরির জন্য পত্রিকায় তেমন একটা বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় না। ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়ে থাকে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ফেসবুক পেজে, বিভিন্ন চাকরি প্রদানকারী এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের গ্রুপগুলোর মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে।

এ বিষয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (ইভেন্ট) আদিল খান বলেন, আমরা গতবারও প্রায় ৩০০ জন কর্মী নিয়েছিলাম। এবার ২৫০ জনকে নেয়া হবে। সদ্য স্নাতক অথবা বর্তমানে যারা স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব শিক্ষার্থীকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। তবে এইচএসসি পাস করা প্রার্থীদেরও নিয়োগের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেয়া হয়।

হাতিল ফার্নিচারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (এইচআর-অ্যাডমিন) শামীম অর রশিদ বলেন, মেলায় কাজ করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি যোগাযোগের দক্ষতা, উপস্থাপনার কৌশল, স্মার্টনেস, উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি বিষয়ও খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। আমাদের স্টলে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদেরই বেশি অগ্রাধিকার দিই।

মেলায় যারা ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারে, তাদের আমরা স্থায়ী কর্মী হিসেবেও নিয়োগ দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলায় এবার কাজ করার জন্য ২৫ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করব।

মেলায় খণ্ডকালীন কাজের জন্য বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়েছে বাটারফ্লাই মার্কেটিং। ন্যূনতম স্নাতক পাসে এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দক্ষতা দেখা হয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলা।

এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মোবাইল ব্র্যান্ড, কনজিউমার ও হাউসহোল্ড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, পোশাক প্রস্তুতকারী বিভিন্ন ব্র্যান্ড, কসমেটিক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিসহ অনেক প্রতিষ্ঠান বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়েছে।

বাণিজ্য মেলায় বিক্রয়কর্মীর কাজ করেছন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসনা হেনা কাকলি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে এই খণ্ডকালীন চাকারি অনেক উপকার দেয়। কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ে।

আর মাসে বাড়তি কিছু টাকা আয় করা যায়। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের চাকরির সুযোগ আরও বাড়াতে হবে। যাতে পাস করার আগে একটি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারা যায়।

 

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts