বীথির ছেঁড়া চিঠি

বীথির ছেঁড়া চিঠি 

ইবনে মনির হোসেন


হে, প্রিয় পরাগ। 

জানিনা চিঠিটা তোমার দৃষ্টিতে আসবে কিনা। অনেক কিছুই বলার ছিল, সব কথা কাগজের ভাষায় ভার বহন করবেনা, তাই লিখলামনা। তুমি ভালো থেকো এই আমার অনন্ত পথের চাওয়া। 


মনে কি পড়ে আমার কথা। তুমি সারাদিন অফিসে ব্যস্ত যখন।

আমি তোমার কথা ভেবে-ভেবে ছটফট করি খাঁচার পাখির মতো।

কখন আসবে তুমি কখন!

তোমার মুখে ভোরের হাসির সাথে রূপালী চাঁদের হাসি মেখে এক হয়ে যাবো দু'জন এটাই ছিল আমার চাওয়া, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।


 কখনো তুমি ভেবেছ কি? আমার কথা!

বিকালে আসার কথা, আসো রাতে

কিংবা গভীর রাতে। যখন পথের ধারে নেমে আসে নিরবতা। কখনো শুকনো হাসি অনেক কষ্টে হাসো,

আমি হেসেছিলাম কি না, তা দেখার অপেক্ষাটুকো দৃষ্টিহীন ছিল প্রতিটি ফেরার প্রহর। 


কি এমন কষ্ট তোমার, যা আমি জানতে পারিনি। এটাও কি ছিল আমার অযোগ্যতা। আমি নাকি তোমার অর্ধাঙ্গীনি, এ অর্ধাঙ্গীনিটা কোন অর্ধাঙ্গীনি, খুব জানতে ইচ্ছে করে আমার! সহধর্মিণী হয়ে বাকিটুকু সময় যাতে সুখের আলো দেখা যায়।


তোমাকে নিয়ে রাতের খাবার এক সাথে বসে খাবো, এই অপেক্ষায় কত ভোর এসে ছুঁয়েছে আমায়। তুমি কখনো এসে জানতেও চাওনি, এই কি তোমার ভালোবাসা। এইতো কদিন হলো, তোমার সুখের আসায় নিজের সব অস্তিত্ব বিলিন করে, তোমার হাত ধরে ঘর থেকে বেড়িয়ে এসেছি।


তুমি না বলেছিলে, আকাশের চাঁদ দিয়ে আমাদের ঘরটা ভরে দিবে রূপালী আলোয়। সাতসমুদ্রের গহীন থেকে এনে দেবে এক মুঠো ভালোবাসার হিরক মালা। এই কদিনেই ভুলে গেছ। মনে কি পড়ে সে দিনের কথা। আজ আমি তোমার খাঁচায় বন্দী পোষা পাখি। 

  

জানো তোমাকে নিয়ে মনের গহীনে কত স্বপ্ন সাজায় কোমল পরশে। তুমি জানো কি? 

তুমি তো সারাক্ষণ কাজ আর কাজ

এই কাজের ফাঁকে আমি হারিয়ে যায় তিমির গহিনে।

তোমাকে নিয়ে আমার বেশী কিছু চাওয়ার নেই। নেই তেমন কোন চাওয়া পাওয়া, অসীম বিলাসিতা আর রাজরাণীর রাজত্ব। তোমাকে নিয়ে সুখে শান্তিতে হাসিখুশী একটা স্বপ্নের সন্ধানে পথ চলা, এটাই কি বেশী কিছু ছিল?


প্রতিদিন নই, মাসে কিংবা তারো কিছু পর একবার কি পারিনা..! খোলা আকাশের পারফিউম টা শুঁকে দেখতে।

তুমি আসলে, তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো।

একসাথে হাতে-হাত রেখে কিছুটা সময় পেতে 

তোমার দেওয়া নীল শাড়িটা পড়ে,

নদীর ধারে, সবুজ বাঁকে, সাদা কাঁশফুলের মত 

ডানা মেলে উড়বো কিছুটা সময়।

তুমি আসবে বলে শত ব্যস্ততার অজুহাতে,

একটা, একটা করে প্রতিটি দিন বেলুনের মতো

চুপসে যায়। মনের কোণে সাজানো ছোট্ট, ছোট্ট

কিছু প্রেম, কিছু আশা, কিছু ভালবাসা!


আর আমি পিন্জিরার বন্ধি পাখির মতো ছটফট

করি, তুমি আসার পথটি ধরে চাতক পাখির মতো!

আমি বারবার ভ্রমে যায় এই বুঝি তুমি এলে,

বিষম শূণ্যতায় ফিরে আসি ডানাভাঙ্গা পাখির আহত 

বিষন্নতায় কুড়ে কুড়ে খাই প্রতিটি মূখুর্ত!


চাইনা আমি অসীম আকাশ, বাধ ভাঙ্গা নদী। চাইনা আমি 

নীড় হারা পাখির অবাধ বিচরণ। চাইনা আমি অসীম রাজত্ব্য,

উচ্চ বিত্তশালী বিলাসীতা। 

আমি চাই একটি ফুটফুটে ভোর চায়ের চুমুকে সোনালী সকাল।

রোদ্দুর ছোঁয়া গোধুলীলগ্ন বিকাল।

নদীর তীরে ছাদের কার্নিশে তেলছাপ একটি সন্ধ্যা। যেখানে তুমি আমি দুটি পাখি হয়ে

ডানা মেলে ভুলে যাবো একটি বিদঘুটে তিমির রাতের কথা, যেখানে সমস্ত কান্নারা বিলাপ করে।


একফালি চাঁদে জোৎস্না স্নানে হাতে হাত রেখে

কিছুটা সময় হবো ঐ বৃক্ষ দের মত নিরব

পুষ্পদের মত হব সুবাসে মুগ্ধ!

তুমি কি হবে আমার রূপালী ফ্রেমে রূপালী রোদ্দুর বন্ধু।

তুমি কি হবে মায়াবী চাঁদের জোৎস্না।

তাহলে হাতটা বাড়াও! 

আমার হাতে এক সাথে

অনন্ত পথেরদাবী নিয়ে হেঁটে যাবো দুজন।

একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিয়ে। তুমি আমার, আমি তোমার।

 সকল তমসার আঁধার এখানে রূপালী বৃষ্টি হয়ে ঝরে যাবে।

যে হাতটা হবে জোৎস্না ভরা চাঁদের মতো সচ্ছ,

প্রভাতের মত সত্য, কোমল ও নরম বিশ্বাসে ভরা।

যেমন আমরা রাতের ক্লান্তি নিয়ে ঘুমে যায় প্রভাতের খুঁজে, বিশ্বাস গুজে।

 আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও প্রভাত ঠিকি এসে,

দরজায় কড়া নাড়ে ফুল ফুটে। প্রজাপতি ডানা মেলে, ফুলে-ফুলে পরাগ ছড়ায়। 


মনে চাইলে এসো তুমি 

নতুন দিনের নতুন হাসি, নতুন রঙে রাঙা রবি হয়ে।

আর তোমার একমুঠো ভালোবাসার প্রত্যাশায় আমার প্রতিটি দিন অপেক্ষায়...।    

                                   ইতি

                           তোমার বীথি

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts