মাগুর ও শিং মাছ চাষ পদ্ধতি


বাংলাদেশে মাগুর ও শিং মাছ অত্যন্ত জনপ্রিয় মাছ হিসেবে পরিচিত। এসব মাছ খেতে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। সুদূর অতীতে এ মাছগুলি প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের জলাশয়ে প্রচুর পাওয়া যেত। এবং শিং ও মাগুর মাছের মধ্যে কিছুটা মিল রয়েছে তাদের বৈশিষ্ট্য। এদর দেহ লম্বাটে, সামনে দিকে নলাকার, পিছনের দিকে চ্যাপ্টা আঁশ এবং মাথার উপর নিচু চ্যাপ্টাূ। এবং মুখে চার জোরা শুর ও মাথা দুই পাশের দুইটি কাঁটা আছে।এবং মাগুরের দেহের রং ছোট অবস্থায় বাদামি এবং বড় অবস্থায় ধূসর বাদামি হয়।এবং শিং এর বাদামি লাল এবং ধসর কালচে হয় বড় অবস্থায়।



প্রজনন সময়ঃ


মাগুর ও শিং মাছ বছরে একবার প্রজনন করে থাকে। এদের প্রজনন কাল হচ্ছে মে-সেপ্টেম্বর। কিন্তু তবে এদের জুন-জুলাই মাসে ও সবোর্চ্চ প্রজনন হয়ে থাকে।



মাগুর ও শিং মাছ কেনো চাষ করবোঃ



এ মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু।অধিক সংখ্যক মাছ এক সঙ্গে চাষ করা যায়। স্বল্প গভীর পানিতে নিরাপদে চাষ করা সম্ভব।এবং অন্যান্য মাছের তুলনায় এ মাছের চাহিদা ও বাজার মূল্য অনেক বেশি। রোগীর পথ্য হিসেবে এ মাছের চাহিদা ও ব্যাপক।



মাগুর ও শিং মাছ চাষের সুবিধাঃ



এ মাছ চাষ পদ্ধতি সহজ এবং যে কোনো ধরনের জলাশয়ে ও খাঁচাতে চাষ করা যায়।  বাজারে এ মাছে অনেক চাহিদা রয়েছে। রোগবালাই খুব কম হয়। এবং অল্প পানিতে ও অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়।এবং এ মাছ ৬-৭ মাস বয়সে বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে থাকে।



চাষ ব্যবস্থাপনাঃ



মাগুর ও শিং মাছ চাষের জন্য ১.০ থেকে ১.৫ মিটার গভীরতা পুকুর এ মাছ চাষের জন্য উপযোগী। সম্ভব হলে পুকুরের পানি শুকিয়ে পাড় মেরামত করে নিতে হবে। পুকুরপ্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন, ১০ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি সার প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে প্রতি শতাংশ ৪-৬ সেঃমিঃ দৈর্ঘ্যের সুস্থ, সবল ২০০ থেকে ২৫০টি পোনা মজুদ করা যেতে পারে।



পোনা মজুদঃ



পুকুর প্রস্তুতির ৫-৭ দিন পর পর  পুকুরে প্রতি শতাংশে ১৫০-২০০ টি মাগুর মাছের পোনা মজুদ করতে হবে। এবং শিং যেহেতু  আকারে ছোট তাই এ মাছ বেশি ছাড়া যেতে পারে ৩০০-৪০০ টি মজুস করা যাবে।



খাদ্য প্রয়োগেঃ



মজুদকৃত মাছের মোট ওজনের ৪-৫% হারে দৈনিক দুইবার খাদ্য প্রদান করতে হয়। খাবার প্রস্ততের ২৪ ঘন্টা পূর্বেই সরিষার খৈল পানি তে ভিজিয়ে রাখতে হবে।



সম্পূরক খাদ্য সরবরাহঃ



চালের কুঁড়া শতকরা ৪০ ভাগ। তৈলবীজের খৈল ৩০ ভাগ ও শুঁটকি ৩০ ভাগ একত্রে মিশিয়ে গোলাকারে বল তৈরি করে মাছকে সবররাহ করতে হবে। এছাড়া শামুক-ঝিনুক মাছকে খাওয়ানো যেতে পারে।



রোগঃ



মাছ চাষ চলাকালিন মাছ নিয়মিত বাড়ছে কিনা তা এবং মাছ রোগাক্লান্ত হচ্ছে কিনা তা জাল টেনে দেখতে হবে। মাগুর ও শিং মাছের রোগ হয় না। তবে মাঝে মাঝে শীতকালে ক্ষত রোগ, লেজ পাখনা পচা এবং পেট ফোলা রোগ দেখা যায়।



মাছ আহরণঃ



পুকুরে মাছ সটিক ভাবে এরিচর্যা করলে ৬-৮ মাসে  মাছ বাজার জাতকরণের উপযোগী হয়। এবং অই সময়ে শিং মাছ গড়ে ১০০-১২৫ গ্রাম ও মাগুর ১২০-১৪০ গ্রাম হয়ে থাকে। এবং পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরতে হবে। তবে সম্পূর্ণ মাছ আহরণ করতে হলে পুকুর শুকিয়ে ফেলতে হবে।

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts