মাথাব্যথা নিয়ে মাথাব্যথা

মাথাব্যথা নিয়ে ভোগান্তি কমবেশি সবারই হয়।উইকিপিডিয়া অনুযায়ী প্রতি বছর ৪৬-৫৩% মানুষ মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়। 


কারন

সত্যিকার অর্থে এটি কোন রোগ নয়,রোগের উপসর্গ। বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল হেডেক সোসাইটি সুবিধার জন্য এই কারনগুলো দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করে,প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি।

প্রাইমারি

যে ব্যথার উৎস মাথা নিজেই, সেটা প্রাইমারি। যেমনঃ টেনশন টাইপ, মাইগ্রেন, ক্লাস্টার টাইপ ইত্যাদি। এছাড়াও অতিরিক্ত পরিশ্রম, কোন প্রকার আঘাত, পানিস্বল্পতা, দীর্ঘসময় ধরে খালি পেটে থাকা,এমনকি যৌন আকাঙ্খাও এধরনের মাথাব্যথার কারন হিসেবে চিহ্নিত। মেয়েদের ক্ষেত্রে   হরমোন জনিত কারণের আধিক্যই বেশি।

বাচ্চাদের ধারনত ঠান্ডা থেকে মাথায় ব্যথা হয়,তবে মাইগ্রেনও অন্যতম কারণ। 

সেকেন্ডারি

এই ব্যথা মূলতঃ স্নায়ু উত্তেজক ওষুধের অতিরিক্ত সেবনের কারনে হয়ে থাকে। এছাড়া মস্তিষ্কের সংক্রমন, মস্তিষ্কের আভ্যন্তরিণ রক্তপাত, টিউমার প্রভৃতি কারন অন্যতম।


লক্ষণসমূহ  

পুরো মাথা অথবা যেকোন একপাশে মধ্যম থেকে তীব্র মাত্রার ব্যথা হয়ে থাকে। পুরো মাথা জুড়ে ভোঁতা অনুভুতি সম্পন্ন মাঝারি তীব্রতা সাধারণত টেনশন টাইপ ব্যথার লক্ষণ। 

মাইগ্রেন মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা শুরু হয়ে সেখানেই থাকে। এর সাথে বমি হওয়া, আলো,শব্দ সহ্য করতে না পারা ইত্যাদি উপসর্গও থাকে।অনেক সময় রোগী একধরনের আলোকচ্ছটা দেখতে পান, যা 'অরা' নামে পরিচিত। 

ক্লাস্টার টাইপও কিছুটা মাইগ্রেনের মত,তবে এটি যেকোন একপাশ থেকে শুরু হয়ে মাথার সামনে বা পিছনে ছড়িয়ে পড়ে। 

সেকেন্ডারি মাথাব্যথার নির্দিষ্ট কোন ধরন নেই। তবে দেখা গেছে, এ ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই তীব্র ব্যথা শুরু হয়,যা আগে কখনো ছিল না বা হয়নি। অনেক সময় চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া,অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারে। 

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা 

যেকোন ধরনের মাথাব্যথার ক্ষেত্রেই অন্তত একবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে নিশ্চিত হয়ে নেয়া ভাল। টেনশন টাইপ ব্যথা যেহেতু তেমন মারাত্মক নয়,তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনই যথেষ্ট। তবে দুশ্চিন্তাহীন জীবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তাও অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

মাইগ্রেন ও ক্লাস্টার টাইপের জন্য চিকিৎসকের অধীনে এবং নিয়মিত চেকআপ আবশ্যক।এছাড়া জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করা  যেমন ধুমপান ত্যাগ,নিয়মিত ব্যায়াম,পর্যাপ্ত ঘুম,কম আলোয় পড়াশোনার অভ্যাস পরিহার ইত্যাদি মাইগ্রেনের ব্যথা কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেকেন্ডারি ব্যথার কারন নির্ণয় করে অনতিবিলম্বে চিকিৎসা নেয়া উচি। এ ক্ষেত্রে দেরি হলে জটিলতা বেড়ে যায়। 

সর্বপরি,সচেতন হোন,সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন।                 

Related Posts