যেদিন সমুদ্রগুলিকে অগ্নিময় করা হবে

সুরা তাকভিরে ক্বিয়ামত সংঘটন কালের ১২টি অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬টি হবে দুনিয়াতে এবং ৬টি হবে আখেরাতে। দুনিয়ার ছয়টি অবস্থা বর্ণিত হয়েছে ১ হতে ৬ নং আয়াতে। হযরত উবাই বিন কা’ব (রা:) বলেন, (১)মানুষ বাজার ঘাটে মশগুল থাকবে। এমতবস্থায় হঠাৎ সূর্যের আলো নিভে যাবে। (২) নক্ষত্রসমূহ খসে পড়বে। (৩) পাহাড়সমূহ মাটির উপর ভেঙ্গে পড়বে ও সারা পৃথিবী কম্পিত ও আন্দোলিত হবে। (৪) এ সময় জিন-ইনসান সব ভয়ে ছুটাছুটি করতে থাকবে। (৫) পশু-পক্ষী সব ভীত-চকিত হয়ে একত্রিত হয়ে যাবে। (৬) সমুদ্র সব অগ্নিময় হয়ে একাকার হয়ে যাবে। এর পর একটি বায়ু প্রবাহ আসবে। যাতে সবাই মারা পড়বে। (সংক্ষেপায়িত; ইবনু জারীর, কুরতুবী, ইবনু কাছীর)।

 

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, واذالبحار سجرت অর্থ- যে দিন সমুদ্রগুলিকে অগ্নিময় করা হবে। (সুরা- তাকভীর-৬)

سجرت দু’টি অর্থ হতে পারে। ১। পানিতে ভরপুর হওয়া ও পানি উদ্বেলিত হওয়া (কুরতুবী)। ২। অগ্নিময় হওয়া। ইবনু আব্বাস, মুজাহিদ প্রমুখ বিদ্বানগণ এই অর্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন (ইবনু কাছীর)।

 

শতকরা ১১.১ ভাগ হাইড্রোজেন ও ৮৮.৯ ভাগ অক্সিজেন গ্যাস মিলিত হয়ে পানি সৃষ্টি হয়। কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহর হুকুমে সেই পারস্পরিক মিশ্রণ ও আকর্ষণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তথন এ দু’টি স্ব স্ব অবস্থায় ফিরে যাবে এবং পানিভরা সমুদ্র সব গ্যাসভর্তি আগুনে পূর্ণ হয়ে যাবে। এখানে سجرت শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে আল্লাহ পানি সৃষ্টির উৎসের সন্ধান দিয়েছেন যে, এটি কেবল ঠাণ্ডা পানীয় নয়। বরং ওটা আসলে দু’টি গ্যাসের মিলিত রূপ্ বান্দা এখন এই সুত্র ধরে বের করবে যে, এর মধ্যে কি কি গ্যাস আছে এবং কয়ভাগ করে আছে। এই গবেষণার মাধ্যমেই বান্দা জানতে পারবে কে এই দু’টি গ্যাসকে একত্রিত করে সুপেয় পানিতে পরিণত করল? ল্যাবরেটরী পরীক্ষায় যখন সে সবকিছু জানবে, তখন সে বিস্মিত হয়ে বলে উঠবে- ‘আল্লাহ’। তিনি ব্যতীত এই ক্ষমতা কারু নেই’। জ্ঞানী বন্দা এক গ্লাস পানি বা পানীয় পান করার সময় যখন জানবে যে, জীবন হরণকারী এক গ্লাস আগুনকে তার জন্য জীবনদায়িনী এক গ্লাস পানিতে পরিণত করা হয়েছে, তখন তার দেহ-মন স্বত:স্ফূর্তভাবে বলে উঠবে- আলহামদুলিল্লাহ-“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য”।

 

কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, বিজ্ঞানীদের এই মূল্যবান আবিষ্কারকে মানুষ ব্যবহার করছে মানুষের ধ্বংসের কাজে। তারা হাইড্রোজেন দিয়ে বোমা বানাচ্ছে। অথচ সুপেয় পানির অভাবে প্রতি বছর লাখ লাখ  বনু আদম অসহায়ভাবে মারা যাচ্ছে।

 

কিয়ামতের দিন ভূগর্ভে গ্যাসীয় আগুন এবং ভূপৃষ্ঠের সমুদ্রের আগুন মিলিত হয়ে সমস্ত পৃথিবী জ্বলে-পুড়ে একাকার হয়ে নতুন জগত সৃষ্টি হবে এবং সবকিছুই ঘটে যাবে আল্লাহ্র হুকুমে চোখের পলকে বা তার চাইতে কম সময়ে (ইবরাহীম ১৪/৪৮; লোকমান ৩১/২৮; নাহল ১৬/৭৭)।

 

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts