রপ্তানিতে বাংলাদেশ

একটি দেশের অর্থনৈতিক খাতে সমৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হচ্ছে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা। বিগত ৯ বছরে রপ্তানি খাতে ধারাবাহিক উন্নতির ফলস্বরূপ আমাদের দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সমৃদ্ধির পথে রয়েছে।

চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশ প্রথম নয় মাসে (জুলাই ২০১৭-মার্চ ২০১৮) ২ হাজার ৭৪৫ কোটি ডলারের (২৭.৪৫ বিলিয়ন ডলার) পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর শেষে রপ্তানিতে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার (৩৭.৫০ বিলিয়ন ডলার) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অর্থনীতিবিদদের মতে রপ্তানি খাতে বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে।

তাছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে ৬০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে ২০১৭ সালের জুলাই হতে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত গত ৯ মাসে শিল্প খাতে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলার যার মধ্যে ২৩ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে তৈরী পোশাক খাত হতে। গত ৯ বছরে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে। পোশাক খাত ছাড়াও পাট, চামড়া, ঔষধ, মৎস সহ অন্যান্য খাতেও নতুন বাজার সৃষ্টি ও রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগের সফলতা পাওয়া যাচ্ছে।

২০০৯ সালে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ছিল মাত্র ৫.৫ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তীতে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থ বছরের এপ্রিল ২০১৮ বছর পর্যন্ত রেমিট্যান্স ১২ বিলিয়ন ডলারের অধিক অর্জিত হয়েছে।

উল্লেখ্য ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন দেশে মানব সম্পদ জনশক্তি রপ্তানি হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত  বছর ১০ লাখের অধিক জনশক্তি রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০০৯ সালে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ছিল মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০০৫ সালে এই ক্ষেত্রে মজুদ ছিল ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা মজুদের দিক দিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।

২০০৯ সালে বাংলাদেশের সরাসরি বিনিয়োগ ছিল ০.৭৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে তা বেড়ে দ্বিগুণ হবে।

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts