লেবু চাষ পদ্ধতি


আমাদের দেশে প্রায় সারা বারো মাস কালই লেবু পাওয়া যায়। লেবু দিয়ে সরবত তৈরি করা যায় এবং লেবু সালাদের সাথে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া লেবু দিয়ে আচার তৈরি করা যায়। কিছু কিছু খাবারে টক স্বাদ আনতে লেবু ব্যবহার করা যায়। লেবু খুবই জনপ্রিয় তাই সব সময় এর চাহিদা থাকে। লেবুর চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয় করাও সম্ভব।


লেবু ও সবজি যেন একে অপরের পরিপূরক। প্রায় সকল প্রকারের সবজিতে লেবু খা্ওয়া যায়। লেবু খাবারের রুচি বৃদ্ধি করে এবং খাবারে আনে ভিন্ন স্বাদ। আমাদের দেশে বিভিন্ন ফলমূলের মধ্যে লেবু অন্যতম। লেবু টক জাতীয় ফল। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই লেবুর চাষ হয়।

লেবুর পুষ্টিগুণঃ

লেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি´ রয়েছে। এছাড়াও লেবুর রস মধুর সাথে অথবা লবণের সাথে মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডা ও সর্দি কাশি সারে।

লেবুর জাতঃ

আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের লেবুর জাত রয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু উচ্চফলনশীল লেবুর জাত হচ্ছে, বারি লেবু-১, বারি লেবু-২, বারি লেবু-৩, বাউ কাগজী লেবু-১, বাউ লেবু-২ ইত্যাদি। এ সকল জাতের লেবু গাছ থেকে বেশি ফল পাওয়া যায় জুলাই-আগষ্ট মাসে।


লেবুর চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটিঃ

মার্চ অক্টোবর মাসে লেবুর চারা রোপণ করতে হবে। প্রায় সব ধরণের মাটিতে লেবুর চাষ করা যায়। কিন্তু অম্ল যুক্ত দো-আঁশ মাটি বেশি উযোগী। এ মাটিতে লেবু উৎপাদন ভাল হয়।


লেবুর চারা উৎপাদনঃ

লেবুর চারা বীজ হতে উৎপন্ন হয়। এছাড়াও কলম থেকে চারা উৎপাদন করেও চাষাবাদ করা যায়।


লেবুর চারা রোপণ পদ্ধতিঃ 

১. গুটি কলম ও কাটিং তৈরি করে মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত লেবুর চারা রোপণ করা হয়।

 ২. চারা রোপণের সময় একটা চারা হতে আর একটা চারার দূরত্ব কম পক্ষে ৫ মিটার হতে হবে।

৩. ৮-১০ মাসের চারা রোপণ করলে ভাল হয়।

লেবুর চাষে সার প্রয়োগঃ

ভালো ফলন পেতে হলে জৈব  সারের বিকল্প নেই বললেই চলে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার দেওয়া উচিত। জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকে।এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে।


লেবুর সেচ

শুকনা মৌসুমে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে। এবং বর্ষার সময় গাছের গোড়ায় পানি জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

লেবুর রোগবালাইঃ

১. প্রধান প্রধান শেকড়ের মধ্যে লেবুর পোকা ও ফলমাছি কাঁচা ফল থেকে রস শুষে নেয়।

২. ফলমাছি ফলের ভেতরের অংশ ক্ষতি করে।

রোগের প্রতিকারঃ

এসব পোকা দমনে বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক পাওয়া যায়। 

লেবুর চাষের সময় পরিচর্যাঃ

১. একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের দূরত্ব ২০-২৫ ইঞ্চি হতে হবে।

২. শক্ত মাটি গাছের চারদিকে সরিয়ে দিতে হবে।

৩. অতিরিক্ত এবং শুষ্ক ডাল ছাঁটাই করতে হবে।

৪. নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts