সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে প্রভাব পড়বে পোশাক খাতে

কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে বাংলাদেশের গার্মেন্ট তথা সার্বিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চাপের মুখে পড়বে। 
যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য দপ্তরের সহায়তায় পরিচালিত একটি ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ-মার্কেট ওভার ভিউ’ শিরোনামে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সর্বশেষ রিপোর্ট তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়-বাণিজ্য তথা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে একটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া যদি সঙ্গত হয় তা হলে অবশ্যই মার্কিন কোম্পানীগুলো তা বিবেচনায় নেয়। দেশীয় কূটনীতিকরা এটা মানছেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হলে বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটি সামলে উঠতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। 
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান অবশ্য এ নিয়ে এখনই হতাশ হতে চান না। তার মতে, নির্বাচনে যেটুকু ইতিবাচক দিক রয়েছে তার পেছনে নিশ্চয়ই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা রয়েছে। কিন্ত সেখানে সরকার তথা রাজনীতিবিদদের ভূমিকাও কম নয়। নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নানা কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সুনাম কুড়িয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চা তার অন্যতম। কিন্ত সেই ‘গণতন্ত্র’ই যদি ধূসর হয়ে যায় তাহলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ভাবমূর্তিসহ সর্বক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের প্রধান রফতানি গন্তব্য আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে নেতিবাচক ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল। কষ্টকর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এটি কাটিয়ে উঠেছে। আমেরিকায় বাংলাদেশের রফতানি কমে গিয়েছিল। সর্বশেষ গত বছর ৫০৬ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছিল, যা ২০১৬ সালের চেয়ে চার দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। কিন্ত এ বছরই বাংলাদেশ দেশটিতে রফতানিতে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে ছয় দশমিক ৭০ শতাংশ।
মার্কিন কংগ্রেসে রেজুলেশন পাস হওয়া ছাড়াও স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে নিয়মিতভাবে নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হচ্ছে। এ নিয়ে ঢাকায় এবং ওয়াশিংটনে কথা বলেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন মুখ্য উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার দলমত নির্বিশেষে সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রচারণার শুরুতেই সংঘটিত সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিনিরা প্রায়শই বলছেন, সহিংসতায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এতে তারাই লাভবান হয় যারা গণতন্ত্র চায় না, যারা গণতন্ত্রকে ক্ষুণœ করতে উদ্যত হয়ে আছে। মার্কিন কূটনীতিকরা দ্ব্যার্থহীনভাবে বলছেন, তারা বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী, দল বা জোটের পক্ষে নন।

    Tags :

No Comment yet. Be the first :)

Related Posts