হুজুর যখন ক্রাশ (পর্ব ৭)

এতদিন পরে নিজের ঘরে ফিরে যেন প্রাণ ভরে নিঃস্বাস নিলো রামিসা। ঘরের যাচ্ছেতাই অবস্থা দেখে ল্যাংড়া পা নিয়েই ঝার-মোছা শুরু করে দিলো।

"আরে কি করছিস তুই? ঘরে কি কাজের লোক নেই আমার? তুই এসব করতে গেলি কেন?"

" মা, কত্তদিন পরে ঘরে এলাম বলোতো! একটু করতে দাওনা, প্লিজ!''

"আচ্ছা, আচ্ছা। কিন্তু আজকেই এত কাজ করতে হবেনা। ডাক্তার কি বলেছেন মনে নেই?"

"হুম বেশ আছে। এবার তুমি যাওতো, প্লিজ মা...!”

" একদম বাপের মতই ঘাড়ত্যাড়া হয়েছে মেয়েটা। আচ্ছা গেলাম।কিছু লাগলে বলিস।"

" আচ্ছা।"

একটি চিঠি লিখতে বসলো রামিসা।

"আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। অনেকদিন হলো আপনার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। কেমন আছেন কি করছেন কিছুই জানিনা। খুব জানতে ইচ্ছে করে। আচ্ছা আপনার কি আমার কথা জানতে ইচ্ছে করে?আমি কেমন আছি কি করছি.............."

"এই যে নোংরা গায়ে বসে বসে আমাকে চিঠি লিখছো।" 

পেছন ফিরে রামিসা প্রায় অজ্ঞান হতেই গিয়েছিলো। 

"রাব্বি ভাইয়া.....! আপনি...? আপনি কি করে এখানে...?  আমার ঘরে...? কিভাবে এলেন? কখন এলেন? মা....মা....দেখো কে.....

এবার রামিসার মুখ দুহাত দিয়ে চেপে ধরলো রাব্বি।

" আরে আস্তে। একদম চুপ। আমি তোমাকে দেখতে এসেছি। কাউকে ডাকতে হবেনা। বুঝেছো?"

"উহু"। রামিসা ইশারায় উত্তর দিলো।

" ভাইয়া আপনি কখন এলেন?  আমি..... " এবার রামিসা হাপানো শুরু করলো।

"পানি খাবে?"

শুধু মাথা নাড়ালো রামিসা। রাব্বি এক গ্লাস পানি দিয়ে বললো, "আস্তে খাবে। তিন বারে। বিসমিল্লাহ্ বলবে আগে।"

আবার মাথা নাড়ালো রামিসা। 

বিসমিল্লাহ বলেই এক ঢোকে পুরো গ্লাসের পানি খেয়ে নিলো।

"বলেছিলাম তিন বারে আস্তে আস্তে খেতে।"

"সরি ভাইয়া।"

"এরকম নোংরা কাপরে বসে কেউ আমাকে চিঠি লিখুক সেটা আমি মোটেই পছন্দ করিনা।"

"সরি ভাইয়া।আর লিখবোনা।"

"অবশ্যই লিখবে। কিন্তু পবিত্র হয়ে। যাও গোসল করে এসো।"

"এখন?"

" তো কখন? এভাবে নোংরা হয়ে আমার সামনে থাকবে নাকি?"

"আপনি?"

"আমি মানে? আমাকেও গোসল করতে যেতে হবে নাকি?"

" না, না।  তা বলিনি। বলতে চাইলাম আমি গোসল করতে যাবো আর আপনি আমার ঘরে বসে থাকবেন?"

"কেন? থাকলে কোন সমস্যা?"

"নাহ।"

"এখন যাও। তাড়াতাড়ি করবে।"

"আচ্ছা।"

গোসল শেষ করে রামিসা দেখে তার বিছানায় রাব্বি ঘুমিয়ে পরেছে। 

"কি আশ্চর্য! 

আমাকে তাড়াতাড়ি বের হতে বলে নিজেই ঘুমিয়ে পরেছেন। কত কথা ছিলো। উনি সামনে এলেই সব ভুলে যাই। কিছুই তো বলা হলোনা। আমি কি ডাকবো উনাকে! না থাক! ঘুমোক । হয়তো অনেক ক্লান্ত।"

ধীর পায়ে রাব্বির মাথার কাছে গিয়ে থামলো রামিসা। খুব ইচ্ছে করছে পাশে গিয়ে বসে উনার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিতে। যা ভাবা সেই কাজ। রাব্বির মাথার কাছে বসেই পরলো রামিসা। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে তার এত এত ভালো লাগার মানুষটিকে। এত সুন্দর নুরানি চেহারার দিকে না তাকিয়ে কি থাকা যায়! রাব্বির মাথার কাছে হাত নিয়ে আটকে যায় রামিসা। সে কি তাকে স্পর্শ করবে? নাকি আবার রেগে গিয়ে উনি চলে যাবেন। ভাবতে ভাবতে মনের অজান্তেই আঙুল গুলো রাব্বির এলোমেলো চুলের ভেতর হারিয়ে গেলো।

সমস্ত শরীরে একটা অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেলো। এমন অনুভূতি রামিসার অচেনা। 

হঠাৎ রাব্বির হাতের দিকে নজর পরলো তার। হাতে একটা আংটি। বেশ সুন্দর। গাঢ় রঙের এক পাথর বসানো তাতে। রামিসার খুব ইচ্ছে হলো হাতটা ধরে তার কাছে টেনে আনতে। হাতটা এবার ধরে উঠানোর চেস্টা করতেই রাব্বি বেশ জোরে রামিসার একটা হাত চেপে ধরলো। হঠাৎ এমন আচরনে রামিসার খুব অবাক হবার আগেই মনে হলো তার হাত পুড়ে ছাই হবার দশা। আগুনের মত জ্বলে যাচ্ছে। কোন কূল কিনারা না পেয়ে এবার রামিসা জোর গলায় ডাকতে শুরু করলো।

" ভাইয়া..... ভাইয়া.... কি হয়েছে আপনার?? উঠুন। ভাইয়া..."

তারপরও রাব্বি চোখ মেলেনা। শুধু শক্ত করে রামিসার একটা হাত চেপে ধরে আছে। যা কিনা জ্বলন্ত আগুনের চেয়েও গরম। 

"বলেছিলাম না।  আমাকে স্পর্শ করবেনা।"

চোখ বন্ধ করেই রাব্বি বলতে লাগলো।

"ছেড়ে দিন। আমাকে মাফ করে দিন ভাইয়া। "

ভীষণ ভয় পেয়ে রামিসা কাঁদতে শুরু করলো।

" কোন মাফ নেই তোমার। এবার তোমাকে মরতে হবে।"

এক ঝাটকায় বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো রামিসা। রাব্বি এবার চোখ মেলে রামিসার দিকে ঘুরে তাকাতেই রামিসা দেখে সেটি কোন মানুষের চোখ নয়। জ্বলন্ত আগুনের কুন্ডলী। রামিসা এক চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। তারপর আর কিছুই মনে নেই.........।

আজানের শব্দে রামিসার ঘুম ভাঙ্গে। মাগরিবের আজান পড়ছে। পুরো ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার। 

" তাহলে কি আমি আবার স্বপ্ন দেখছিলাম! উফ!"

বাইরে ভীষণ বাতাস। রামিসা উঠে গিয়ে জানালা আটকাতে গিয়ে তার টেবিলের উপরে চোখ আটকে গেল। কি যেন চকচক করছে। কাছে যেতেই আঁতকে উঠল সে। 

টেবিলের উপরে শুকতারার মতোই জ্বলজ্বল করে জ্বলছে রাব্বির হাতের সেই আংটি।


(চলবে)

    Tags :

Related Posts