নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের এমপিদের সমর্থন চেয়ে চিঠি দিয়েছে যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগ। চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি ও জামায়াত সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে এবং দেশকে অশান্ত করে তুলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় চিঠিতে। এই চ্যালেঞ্জিং সময় পাড়ি দেওয়ার পথে ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থনের অনুরোধ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত প্যাডে লেখা চিঠি দলমত-নির্বিশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৬৫০ এমপির কাছে পাঠানো হয়েছে। ১৩ মার্চ মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের ডাক বিভাগের কর্মকর্তার হাতে চিঠিগুলো তুলে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের নেতৃত্বে চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়। চিঠির সূচনাতেই বলা হয়, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকারের সময়ে আমাদের কিছু অর্জন, বিশেষ করে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সামনের চ্যালেঞ্জিং সময়ে আপনাদের সমর্থনের জন্য আমরা এ চিঠি লিখছি।’ চিঠিতে গত নয় বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জনের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের বিচার বিভাগ প্রশাসন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়েছে। দুর্নীতি দমনে কঠোর সরকার দুর্নীতি দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করে চিঠিতে বলা হয়, দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে বড় রাজনীতিকদেরও বিচার করা হয়েছে। তবে উদাহরণ হিসেবে কেবল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এবং তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বিচারের কথাই এতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সন্ত্রাস দমন সন্ত্রাস দমন প্রসঙ্গে বলা হয়, বর্তমান সরকার ইসলামিক উগ্রবাদ ও আক্রমণ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে। বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক দল উগ্রবাদে মদদ দেওয়ার কারণে কাজটি ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। এ প্রসঙ্গে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময়কার সহিংসতার কথা উল্লেখ করা হয় সবিস্তারে। বলা হয়, ২০১৫ সালের প্রথম চার মাসে দল দুটির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। প্রতিদিন দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয় ২৮৪ মিলিয়ন ডলার। ওই সময়ে দেশের অর্থনীতি মোট ২৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির শিকার হয়।

সবশেষে বলা হয়, পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে অনুমান করা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে টানা সহিংসতার বিপদ রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত যেকোনো মূল্যে নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এই চ্যালেঞ্জিং সময় মোকাবিলায় ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থন চান তাঁরা।